কোন্নগরে অধ্যাপককে পেটালো ছাত্র নেতারা। কলেজগুলোতে রাজনীতির রমরমা,শিক্ষা তলানিতে।

তলানিতে পৌঁছেছে শিক্ষা, আচার, আচরণ। রাজনীতির দৌলোতে কলেজের কিছু ছাত্ররাই আজ নিজেদের সর্বেসর্বা বলে ভাবতে শুরু করেছেন। স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে তারা ধীরে ধীরে। মাথায় রয়েছে রাজনৈতিক দলের হাত, তাতেই যা খুশি তাই করা যায়, কে কি করবে? দেখে নেওয়া হবে!! ঠিক এই মনোভাব নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজগুলোর ছাত্রনেতাদের দাদাগিরি পরিণত হচ্ছে গুন্ডা গিরিতে। আজ তারই এক নিদর্শন মিলল হুগলির কোন্নগরের একটি কলেজে।

বর্তমানে রাজ্যের কলেজগুলোতে রমরমা রাজনীতি, শিক্ষা তলানিতে। ছাত্রনেতাদের মনোভাব জীবনে শিক্ষা নয় অন্ধ রাজনীতিই এনে দেবে সফলতা। আর তাই রাজনীতি করতে গিয়ে তার রীতিমতো নেমে আসছেন গুন্ডাগিরিতে। আজ কোন্নগর নবগ্রাম হীরলাল পাল কলেজে দেখা গেলো তারই নিদর্শন, কলেজের অধ্যাপককে পেটানোর অভিযোগ উঠলো তৃণমূল ছাত্রপরিষদের কলেজ নেতাদের বিরুদ্ধে।

 

সূত্রের খবর, আজ কলেজে মাস্টার্স কোর্সের ছাত্রদের সঙ্গে আশান্তিতে জড়িয়ে পরে ডিগ্রি কোর্সের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কিছু ছাত্রছাত্রীরা। অভিযোগ মাস্টার্সদের ছাত্রছাত্রীদের তৃণমূলের হয়ে স্লোগান দিতে বলে কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা। তাদের বলা হয় ‘টিএমসিপি জিন্দাবাদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ ‘ বলতে। কিন্তু তা মাস্টার্সের ছাত্রছাত্রীরা না বলতে চাওয়ায় তাদের ইউনিয়ন রুমে তালা বন্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে শাসক দলের ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে।

এরপর মাস্টার্সের ছাত্রছাত্রীদের সেখান থেকে ছাড়িয়ে কলেজের এক অধ্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় তাদের নিয়ে কলেজ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, সেসময় তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের নেতারা কলেজের গেটে তালা আটকে দেয় এরপর অধ্যাপকে কিল,ঘুষি,চর মারতে থাকে তারা। ফলস্বরূপ মার খেয়ে নীচেই বসে পরেন আহত অধ্যাপক। এরপর সেই অধ্যাপক গিয়ে টিএমসিপি এর সেই ছাত্র পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান উত্তরপাড়া থানায়।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে টিএমসিপি। তারা বলেন যে কলেজে এবিভিপি তাদের ক্ষমতা জাহির করতে যাওয়ার দরুণই বচসা বাঁধে দুপক্ষের। হাতাহাতিও হয়। এমন সময় সুব্রত বাবু মাঝে চলে আসায় তাঁরও কিছু মারধর লেগে যায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, সেই অধ্যাপককে বাঁচিয়েছেন সেই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। আর যারা মেরেছেন তাদের নাকী তিনি চেনেনই না যে তারা তৃণমূলের কীনা!! তবে ভিডিও ফুজেটেই পরিস্কার যে, অধ্যাপকের গায়ে কোনো মারধর লাগেনি বরং তাকেই মারছিল তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের নেতারা।

বর্তমানে রাজ্যের কলেজগুলোর এই পরিস্থিতি দেখে বলাই যায় যে, শিক্ষায় রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। পড়াশুনার বদলে রাজনীতিই হয়ে উঠছে প্রধান বিষয়। প্রায় দু বছর ধরে টিএমসিপি এর দাপটে রাজ্যের কোনো কলেজেই প্রায় ভোট হচ্ছে না৷ তারপরও এহেন আচরণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে যে বর্তমানে রাজনীতি শিক্ষাকে ভুলিয়ে দেয়নি তো?

RELATED Articles

Leave a Comment