“অনেকেই আমার মৃত্যু চায়”, দলনেত্রীর কথা শুনে বৈঠকের মাঝেই কেঁদে ফেললেন সুব্রত বক্সি

এমনিতে বৈঠকের পরিস্থিতি থাকে বেশ গরম। দলনেত্রীর কথা মন দিয়ে শোনা, তাঁর প্রত্যেকটা কথা মনে গেঁথে নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করা, এই-ই থাকে সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের চিত্র। কিন্তু গতকাল যেন সেই চিত্রে বদল ধরল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যে বৈঠকের মাঝে কেঁদে ফেললেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি।

এদিন তৃণমূলের বৈঠকে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি বেশ গোলমেলে। একের পর এক নেতাদের গলায় শোনা যাচ্ছে বেসুরো সুর, দল ছেড়েছেন বেশ কিছু পুরনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা, বিধায়ক। তার উপর শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে চাপানউতোর তো রয়েছেই। এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব বিষয় করে আলোচনার সময় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে দলবিরোধীদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যারা তার সঙ্গে নেই, তাদের তিনি দল থেকে সরাতে চান। যদি কেউ দলের হয়ে কাজ না করতে চায়, তিনি যেন তৃণমূলে না থাকেন, এমন বার্তাও দেন শাসক দলনেত্রী।

এরপরই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “কেউ কেউ আমার জায়গাটা নিতে চাইছে। কিন্তু আমার মৃত্যু না হলে তো তা সম্ভব নয়। অনেকেই আমার মৃত্যু কামনা করছেন”। এই কথা শুনে স্বভাবতই হতভম্ব হয়ে যান বৈঠকের অনেকেই। কিন্তু সবথেকে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া আসে সুব্রত বক্সির থেকে। দিদির এমন কথা শুনে বৈঠকে মাঝেই কেঁদে ফেলেন তিনি।

কান্না ভেজা গলাতেই তিনি বলেন, “আপনি এমন কথা বলবেন না। আপনার শতায়ু হোক। আপনি আমাদের ভবিষ্যতে পথ দেখাবেন। আপনার নেতৃত্বেই আমরা এগিয়ে যাব”। সুব্রতকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে তাকে আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, “আপনি একটু জল খান, শান্ত হন। এভাবে কাঁদবেন না প্লিজ”।

এরপর বৈঠক চললেও পরবর্তী সময় চুপচাপ থাকতেই দেখা যায় তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতাকে। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার মনে করিয়ে দেন যে, এতদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সঙ্গে তিনি পরবর্তী চার জেনারেশনকেও তৈরি করেছে। তাঁর পরবর্তীকালে এই তাঁর এই রাজনীতিক দল ও মতাদর্শকে তারাই এগিয়ে যাবে বলে আশা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

RELATED Articles