নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির নতুন প্রকল্প ‘লক্ষ্য সোনার বাংলা’! সুশীল সমাজকে আহ্বান বিজেপির

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। ইতিমধ্যেই, ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’, ‘পাড়ায় পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছতে উদ্ধত শাসকদল। অন্যদিকে, জনসংযোগ বাড়াতে নানান প্রকল্প চালু করেছে বিজেপিও। নির্বাচনকে তাক করেই ফের ২রা জানুয়ারি থেকে গোটা মাস রাজ্যজুড়ে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচী পালন করতে চলেছে বিজেপি। জানা গিয়েছে, সোনার বাংলা গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে ৫০জনের দল গঠন করে সারা রাজ্যে ১০টি বিষয়ের উপর প্রচার চালানো হবে।

জানা গিয়েছে, এই ‘লক্ষ্য সোনার বাংলা’ প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে গেরুয়া শিবিরের দল। কলকাতায় একটি সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানালেন  বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। এই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়, রন্তিদেব সেনগুপ্ত, সপ্তর্ষি চৌধুরী প্রমুখ।

এদিন স্বপন দাশগুপ্ত জানান যে ১০টি বিষয় নিয়ে ‘লক্ষ্য সোনার বাংলা’ কর্মসূচী, সেগুলি হল- সুশাসন, অর্থনীতি, দারিদ্র, কৃষকদের উন্নয়ন, পরিকাঠামো, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা, সবকা সাথ সবকা বিকাশ, সাংস্কৃতিক উত্তরণ এবং শিক্ষার নতুন দিশা। এই কর্মসূচীতে ৪০টি দল পৌঁছে যাবে ২৯৪টি কেন্দ্রে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।

নতুন এই কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করার জন্য কোনও ‘ব্র্যান্ডেড বুদ্ধিজীবী নয়’ বরং সুশীল সমাজকে পাশে চায় বিজেপি। একথাই জানালেন স্বপন দাশগুপ্ত। বলেন, “ সুশীল সমাজ আমাদের পাশে রয়েছেন, তাঁরা নীরব ভোটার। বললেই কী আর এক নম্বর হওয়া যায়? সেইজন্য অনেক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করতে হয়। নিজে বললেই হয় না, অন্যরা যখন স্বীকৃতি দেবে, সেটাই আসল”।

এর সঙ্গে অভিযোগের সুরে তিনি বলেন আগের সরকারগুলি মানুষের ভালোর জন্য, বাংলার উন্নয়নে কিছুই করেনি। তাদের উদাসীনতার জন্যই রাজ্যের মানুষ পিছিয়ে পড়েছেন বলে তাঁর দাবী। তিনি বলেন যে বাংলায় আবার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চায় বিজেপি, বাংলার ঘরে ঘরে যাতে আগের মতোই আদর্শ তৈরি হয়, সেই স্বপ্ন পূরণ করাই বিজেপির লক্ষ্য। তিনি এও অভিযোগ আনেন যে গত ৫০ বছরে রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এইজন্যই রাজ্যের গৌরব ফেরাতে বিজেপির এই নতুন কর্মসূচী।

আরও অন্যান্য খবর