জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাল্মীকি সমাজের ২৩ জন সাফাইকর্মী ছাঁটাই, বাকী কিছুমাসের বেতনও

ফের অন্য একটি বিতর্কে জড়াল দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ওখলা অঞ্চলের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩ জন সাফাইকর্মীকে ছাঁটাই করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ২৩ জনের প্রত্যেকেই বাল্মীকি সমাজের অন্তর্ভুক্ত। বেশ কিছুমাসের বেতনও দেওয়া হয়নি এই কর্মীদের, এমন অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি, একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে রাজেশ কুমার বাল্মীকি নামের এক ব্যক্তি জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হৃদয় বিদারক কিছু বলছেন। তিনি এই ২৩ জন সাফাইকর্মীর একজন যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের জানানো যে ১৩২ জন সাফাইকর্মীর মধ্যে ২৩ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ এসেছে মানবীয় সংস্থা থেকে। তার অভিযোগ, “শুধুমাত্র বাল্মীকি সমাজের সাফাইকর্মীদেরই ছাঁটাই করা হয়েছে। আমরা এখানে গত ১৫-২০ বছর ধরে কাজ করছি। করোনার সময় ওরকম সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করেছি, নর্দমা পরিষ্কার করেছি। আর এখন যখন ছাঁটাই করার সময় এল, তখন আমাদেরই সর্বপ্রথম নিশানা করা হল”।

জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাল্মীকি সমাজের ২৩ জন সাফাইকর্মী ছাঁটাই, বাকী কিছুমাসের বেতনও
Source: OpIndia

তিনি আরও বলেন যে যেসমস্ত সাফাইকর্মীরা আছেন তাদের বেশীরভাগই দশম শ্রেণী পাস আবার অনেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্তও পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু তবুও ভাগ্যের ফেরে তাদের এই কাজ করতে হয়। তার কথায় তাদের ডিপার্টমেন্টে এমন ১৬ জনও রয়েছেন যারা পিয়নের কাজ করেন। আবার কিছু ব্যক্তি এমন রয়েছেন যারা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কাজ করেন। তবে তাদের কাজ কিছুমাসের জন্য। সারা বছর নয়।

রাজেশ কুমারের আরও অভিযোগ যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা গত ৩-৪মাস কোনও বেতন পাননি। এর জেরে তাদের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তাদের দাবী, তারা বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না। এমনকি, ফোনের রিচার্জ পর্যন্ত করার টাকা হচ্ছে না। রি করোনা পরিস্থিতিতে এখন ছাত্রছাত্রীরা ফোনের উপর অনেকটা নির্ভরশীল অনলাইন পড়াশোনার কারণে। কিন্তু রিচার্জ না করতে পারায় তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাতেও ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

RELATED Articles