এক পুলিশ আধিকারিককে বেধরক মারধরের অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ায়। পুলিশকে মারধরের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে এলাকার দুই বাসিন্দাকে। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার ঝালদা থানার ইচাগ অঞ্চলের মেসোমোড়ে। আহত ওই পুলিশ আধিকারিকের নাম হেমন্ত কুমার শাহ। তিনি জানান যে গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি আবাসিক তৈরিকে নিয়ে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় বিবাদ। এই বিবাদের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ওই পুলিশ আধিকারিক। অভিযোগ, এই বিবাদ মেটাতে গেলে প্রথমে পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গেই বচসায় জড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর উত্তেজিত বাসিন্দারা পুলিশের উপর চড়াও হন। বেধরক মারধর চালানো হয় পুলিশ আধিকারিকের উপর। এর জেরে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আক্রান্ত ওই পুলিশ আধিকারিককে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই, এই ঘটনায় ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুই যুবক রূপেশ তিওয়ারি ও কাঞ্চন তিওয়ারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
এই বিষয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “বাংলায় জঙ্গলরাজ চলছে, তার আরও এক প্রমাণ এই ঘটনা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা ভালোই বোঝা যাচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে এই ঘটনা নতুন নয়”।
এই ঘটনার বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের দাবী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অনেকদিন ধরেই জনগণকে নাকি উস্কানি দিচ্ছেন পুলিশকে মারধর করার জন্য। তিনি পুলিশকে হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সৌগত রায়।
এদিকে, ওয়াকিবহালদের দাবী, অতীতেও তৃণমূলের শাসনে পুলিশকে অনেক জায়গায় মুখ লুকোতে দেখা গিয়েছে। শাসকদলের হুমকির মুখেও পড়েছে পুলিশ। তৃণমূলের আমলে থানায় ঢুকে শাসকদলের তাণ্ডব নতুন কিছু নয়।





