উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ঘটল ফের এক নির্মম কাণ্ড। মন্দিরের ভেতরেই উদ্ধার হল রক্তাক্ত পুরোহিতের দেহ। তবে কে কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
লখনউ গ্রামাঞ্চলের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেড হিরদেশ কুমারের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী গত বুধবার লখনউয়ের গ্রামাঞ্চলের বক্সি কা তালাব থানার অন্তর্গত একটি মন্দিরে এক বয়স্ক পুরোহিতের রক্তাক্ত দেহ মেলে। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। এই পুরোহিতের নিজের বাড়ি সুলতানপুরে। তবে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণেরই একটি কুঁড়েঘরে থাকতেন। লখনউ-এর সীমান্ত অঞ্চলের শিবপুরী গ্রামে অবস্থিত এই মন্দিরটি।
পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, কোনওরকম চুরি হয়নি এই ঘটনায়। পুরোহিতের নিজের জিনিস তো নয়ই, এমনকি মন্দিরের টাকার বাক্স থেকেও কোনও টাকা চুরি যায়নি। জানা গিয়েছে, বেশ কিছু বছর ধরেই এই মন্দিরে থাকতেন ওই পুরোহিত। নাম ফকির দাস। ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কী না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খবর দেওয়া হয়েছে মৃত পুরোহিতের পরিবারকেও। তাঁর পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাঁর পুরনো কোনও শত্রু ছিল কী না বা অন্য কোনও ঘটনা অতীতে ঘটেছিল কী না, যার জেরে এই হত্যা। মৃত পুরোহিতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ও অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু সময় ধরেই একের পর এক হিন্দু পুরোহিতের খুনের ঘটনা নজরে আসছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবুলাল বৈষ্ণব নামের রাজস্থানের বঙ্কা গ্রামের এক পুরোহিতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় মন্দিরের জমি অধিগ্রহণ করতে চাওয়া লোকেরা। সেই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে কর্ণাটকের আরকেশ্বর মন্দিরের তিন পুরোহিতকে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এর আগে গত জুলাই মাসেও আনাস কুরেশি নামের এক ব্যক্তি মিরাটের কান্তি প্রসাদ নামের এক পুরোহিতকে হত্যা করে।






