২০১৫ সালের ৪ঠা জানুয়ারি চণ্ডীপুরের যুব তৃণমূলের সভামঞ্চে উঠে সবে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবে মাত্র কয়েকটা কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূলের উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে তখন অখিল গিরি, আনিসুর রহমানের মতো তৃণমূল নেতারা রয়েছেন। এরই মধ্যে এক যুবক মোবাইল ফোনে ছবি তোলার অছিলায় অভিষেকের একেবারে কাছে পৌঁছে যায় আর তার পরই সপাটে চড়-ঘুষি অভিষেকের মুখে l
সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীকে ওই যুবককে ধরে ফেলেন। শুরু হয় গণপিটুনি। লাঠি, বাঁশ নিয়ে ওই এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে তৃণমূলের কর্মী–সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। জখম হন তমলুকের এসডিপিও–সহ ১২ জন পুলিশকর্মী। চণ্ডীপুর থানাতেও চলে ব্যাপক ভাঙচুর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই যুবককে।
আর সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ৬টা বছর। ফের বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যক্কারজনক সেই ঘটনার কথা মনে করালেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা কনিষ্ক পণ্ডা। ফেসবুকে সেইদিনের করা ভিডিও পোস্ট করে কনিষ্ক লিখেছেন, ‘৬ বছর আগের কথা! মনে পড়ল ভাইপো?’
এক বাংলা সংবাদ চ্যানেলের পুরনো সেই ফুটেজ শেষে রয়েছে আর এক চমক। কণিষ্ক পাণ্ডার পাশে বসেছিলেন সেই যুবক, যিনি চড় মেরেছিলেন অভিষেককে। তমলুকের বাসিন্দা দেবাশিস আচার্য নামে ওই যুবক আগে অবশ্য বি টেক পাশ এবিভিপি করতেন। এখন সম্পূর্ণভাবে বিজেপি’র নেতা।
এদিন দেবাশিসকে পাশে বসিয়ে কণিষ্ক পণ্ডা বলেন, ‘ভাইপো চিনতে পারছ? এই সেই আমার ভাই। সেবার তোমার গালে থাপ্পড় মেরেছিল। এবার কিন্তু তোমাকে মারবে না।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ওই ফেসবুক–বার্তায় মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কণিষ্ক পণ্ডা। বার্তার শেষে তিনি বলেছেন, ‘সাবধান ভাইপো’। উল্লেখ্য, ৬ই ফেব্রুয়ারি শুভেন্দুর খাসতালুক কাঁথিতে সভা করতে আসছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার