বুধবার রাতে দিল্লির মঙ্গলপুরী এলাকায় ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনাই এখন দেশে খবরের শিরোনামে। রাম মন্দিরের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলামপন্থীদের হাতে খুন হতে হলো বিজেপির যুব মোর্চার এক কর্মীকে।
এই ঘটনার পরই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ে ছড়ায় উত্তেজনা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক পরিমাণ পুলিশ।
রাম মন্দিরের জন্য অর্থ সংগ্রহ নিয়ে ঝগড়া বাঁধলেও মৃতের পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দশহরায় রাম মন্দির পার্কে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রাম নিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিবাদ হয়েছিল। আর তাঁর জেরেই রিঙ্কু শর্মাকে খুন করা হয়। রিঙ্কুর ছোট ভাইয়ের অভিযোগে পুলিশ মামলা দায়ের করে ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
মৃত যুবকের নাম রিঙ্কু শর্মা (২৫)। বাবা-মা, ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে মঙ্গলপুরী এলাকায় থাকত। একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মীও ছিল রিঙ্কু। মৃত যুবকের ভাই মনু শর্মা জানায়, তাঁদের বাড়ি থেকে একটু দূরে নাসিরুদ্দিন, মহম্মদ ইসলাম, মেহতাব আর জাহিদরা থাকে। মনু জানায়, কিছুদিন আগে রাম মন্দির পার্কে দশহরা প্রোগ্রাম নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের তর্কাতর্কি হয়েছিল। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় তাঁদের প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে যেত।
ঘটনার দিন রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে করে নিয়ে রিঙ্কুর বাড়িতে যায় আর দশহরার দিন হওয়া বিবাদের কথা তুলে গালিগালাজ করতে থাকে। রিঙ্কু আর তাঁর ভাই তাঁদের বিরোধিতা করলে জাহিদ আর বাকিরা রিঙ্কু আর মনুকে লাঠিপেটা শুরু করে দেয়। এরপর মেহতাব রিঙ্কুর শরীরে চাকু দিয়ে একের পর এক হামলা করে।
মেহতাবের চাকু রিঙ্কুর শিরদাঁড়ার হাড়ে ফেঁসে যায়। এরপর অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মনু আর বাকি পরিবার রিঙ্কুকে নিয়ে সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে যায়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন বৃহস্পতিবার সকালেই রিঙ্কুর মৃত্যু হয়। রিঙ্কুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেদিন মধ্য রাতেই পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।






