হঠাৎ করেই বঙ্গ রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে টুপ করে ঢুকে পড়েছে ১৪টা বছর আগের একটা ঘটনা। আর এতেই কিছুটা হলেও কালিমামুক্ত হলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যl
গতকাল অধিকারী পরিবারকে আক্রমণ করতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুলিয়া বাজারের সভা থেকে বলেন নন্দীগ্রামে গুলি চলার ঘটনার জন্য অধিকারীরাই দায়ী। দিব্যেন্দু অধিকারী ছাড়া পুরো পরিবারই এখন বিজেপিতে। তাই মমতা আদতে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন বিজেপিকে। কিন্তু এই নেতারা সেই সময় এবং তারপর দীর্ঘ দিন তৃনমূলেই ছিলেন। আর তাই তাঁরা দল বদলালেও তৃণমূল অভিযোগ মুক্ত হতে পারবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালের সভায় বলেন, ১৪ বছর আগে ১৪ই মার্চ শুভেন্দু-শিশিরের অঙ্গুলিহেলনেই নন্দীগ্রামে ঢুকেছিল পুলিশ। তার পর গুলি চালিয়েছিল নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর l
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার তো করলেনই, উল্টে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শিশিরবাবু বললেন, এসব ‘পাগলের প্রলাপ’। মমতার বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন।
১৪ বছর আগের ঘটনা নিয়ে কি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
তৃণমূল সুপ্রিমো নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যখন নন্দীগ্রামের ঘটনা ঘটল, পুলিশ ঢুকল, গদ্দাররা কি তা জানতেন না? অতবার তাঁদের বুদ্ধবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে।’ তাঁর আরও কটাক্ষ, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, পুলিশের পোশাক পরে অনেকে গুলি চালিয়েছিল। হাওয়াই চটি পরে এসেছিল। এবারেও সেসব কেলেঙ্কারি করছে। এই বাপ–ব্যাটার পারমিশান ছাড়া সেদিন পুলিশ নন্দীগ্রামে ঢুকতে পারত না, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি।’
আর সেখানেই এবার বড় গোল বেঁধেছে! তৃণমূলের মাথা তো সর্বদাই ছিলেন মমতাস! তাহলে তিনি কেনও মুখ খোলেননি? সেই জবাবও দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীই। বলেন, ‘ভদ্রলোক বলে কিছু বলিনি। সহ্য করে গিয়েছি।’ প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শিশির অধিকারী কোনও অভিযোগই মানেননি। তাঁর দাবি, মমতা হেরে যাবেন বুঝে এসব বলছেন।
শিশির অধিকারীর আরও অভিযোগ, ‘যে সব পুলিশ অফিসাররা এখানে গুলি চালিয়েছিল, তাঁদের তো উনি বড় পদ দিয়েছেন। ফলে উনিই সব জানেন। আমরা আর কী বলব, উনি তো তৃণমূল পার্টির লিডার। নন্দীগ্রামের লোক সব জানে। ওঁর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।’ তিনি এও বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানাবেন তিনি।






