ভোটে ব্যাপক হার! ঝাঁ-চকচকে বিশাল কার্যালয় এখন বোঝা সমান রাজ্য বিজেপির কাছে

বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে হেস্টিংসে ঘটা করে খোলা হয় বিজেপির সদর দফতর। ২১শের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে বিজেপির ওয়াররুম খোলা হয়েছিল এখানেই। গোটা একটা ভবনের মাসিক ভাড়া আনুমানিক আড়াই লক্ষ টাকা। আর এই বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতেই এখন নাজেহাল অবস্থা রাজ্য বিজেপির।

এই ভবন দেখেছে নির্বাচন পূর্ববর্তী মহাব্যস্ততা। কিন্তু বাংলার মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানেই এখন শ্মশানের শূন্যতা। প্রয়োজন নেই আর এই চার তলা ভবনের। এমনটাই মনে করছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মাত্র একটি তলা রেখে তিনটি তলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আর‌ও পড়ুন: কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ছায়া পড়ছে বাংলার পরীক্ষার উপর? অনির্দিষ্ট কারণে স্থগিত হল পরীক্ষা সূচি ও নির্ঘণ্ট ঘোষণা

বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ” আগে যেটুকু দরকার ছিল সেই আট তলাটা শুধু রেখে দেওয়া হবে। বাকি তিনটি তলা ছেড়ে দেওয়া হবে। সেটাই আমি বলে দিয়েছি। কল সেন্টারের এখন প্রয়োজন নেই। তাই আর থাকবে না। এই মাস থেকেই ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। তাছাড়া অফিসও এখন তো এমনিতেই বন্ধ।”

হেস্টিংস সদরদফতর হলেও ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন বিজেপির (BJP) রাজ্য দফতর। সেখানেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য ঘর রয়েছে। কিন্তু ১৬, ১৯শের নির্বাচনের থেকে অনেক বড় পরিসরে হয়েছে ২১শের নির্বাচন।‌ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনা মুরলীধর লেনের রাজ্য দফতর থেকে যা পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ‌ সেই জন্যই ভাড়া নেওয়া হয় এই ভবনটি। ১০ তলা বাড়ির চারটি তলা নিয়ে তৈরি হয় বিজেপির সদর কার্যালয়। পাঁচ তলায় তৈরি হয়েছিল মিডিয়া সেন্টার ও আইটি সেন্টার। সাততলায় বিশাল কল সেন্টার। সেখানে কাজ পেয়েছিল কয় ছেলে-মেয়ে। ‌আট ও ন’তলায় রয়েছে নেতাদের বসার আলাদা আলাদা ঘর। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে সেখানে কাতারে কাতারে লোকের জমায়েত। কিন্তু এখন সব ফাঁকা। বিজেপিতে দলবদলে আসাদের তৃণমূলে ফেরা শুরু হয়ে গেছে।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে এই ভবনে সেই ভাবে আসছেনা কেউই। সামনে তৃণমূলের বিরোধীতা করার জন্য নেই বড় কোন‌ও ইস্যু‌ও। তাই এই মুহূর্তে এত টাকা বেকার খরচ করতে নারাজ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ।

RELATED Articles