ত্রিপুরার পদ্মবাগানে ঘাসফুল চাষ করতে উদ্যোগী I-PAC, কিন্তু শুরুতেই বাধা, করা হল হোটেল বন্দি

বাংলায় যে নকশা গড়ে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলকে জয় ছিনিয়ে নিতে সফল হয়েছে আইপ্যাক, সেই একই পদ্ধতিতেই ত্রিপুরাতেও ঘাসফুল ফোটাতে উদ্যোগী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। কিন্তু শুরুতেই ঘটল বিঘ্ন।

বিপ্লবের বিজেপি ত্রিপুরাতে তৃণমূলের আধিপত্য বিস্তার করাতে ইতিমধ্যেই সে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে আইপ্যাক টিম। সেই দলে রয়েছে ৩০ জন সদস্য। কিন্তু শুরুর মুখেই বাধা পেলেন তারা।

আরও পড়ুন- বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য তৃণমূলের সঙ্গেও হাত মেলাতে আপত্তি নেই বামেদের, স্পষ্ট করলেন বিমান বসু

জানা গিয়েছে, আইপ্যাক-এর সদস্যদের হোটেলের বাইরে বেরোতেই দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল, রবিবার হোটেলে গিয়ে আইপ্যাকের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সে রাজ্যের পুলিশ। তাদের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। এরপর রবিবার সকালে আইপ্যাকের টিম গ্রাউন্ড রিসার্চের জন্য বেরোতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় পুলিসগের তরফে।

পুলিশের দাবী সমস্ত নথিপত্র ভেরিফিকেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইপ্যাকের সদস্যদের হোটেলেই থাকতে হবে। অতিমারির কারণেই এই বন্দোবস্ত, জানানো হয় পুলিশের তরফে।

এরপর আইপ্যাকের অভিযোগ এসে পৌঁছয় এ রাজ্যের তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। এ বছর দেশজুড়ে একুশের দিবস পালন করেছে তৃণমূল। সেদিনও ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল ঘাসফুল শিবির। বলা হয়েছিল, ত্রিপুরাতে ২১শে জুলাইয়ের কর্মসূচী বানচাল করতে চাইছে বিপ্লব দেবের সরকার। এবার আইপ্যাকের সদস্যদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল সে রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচন ত্রিপুরাতে। হাতে রয়েছে এখনও দু’বছর। তবে এখন থেকেই পুরোদমে কাজ করতে উদ্যত তৃণমূল। বাংলায় ২০২৬ পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আইপ্যাক। উনিশের লোকসভায় বিজেপি ১৮টি আসন জেতার পরই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার সঙ্গে জোট বাঁধে তৃণমূল।

আরও পড়ুন- ‘এতদিন কী রাজ্য সরকার ঘুমোচ্ছিল?’ বন্যাত্রাণে ব্যাপক দুর্নীতির জেরে রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা আদালতের

আইপ্যাকের রণনীতি ঠিক কতটা সফল, তা প্রমাণ করেছে একুশের বিধানসভা। এই কারণে এবার সেই কৌশলই ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে চলেছে তৃণমূল। এ রাজ্যের মতো ত্রিপুরাতেও বামেদের সরিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল দ্বিমুখী লড়াইয়ের জমি তৈরি করতে উদ্যত আইপ্যাক।

আরও অন্যান্য খবর