কিছুদিন আগেই ফেসবুকে একটি লম্বা পোস্ট করে সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছিলন যে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন। এমনকি, সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে পরে এই সিদ্ধান্ত বদলান।
তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সাংসদ পদে বহাল থাকলেও, সক্রিয় রাজনীতি তিনি আর করবেন না। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক কিছু ফেসবুক পোস্ট নিয়ে নতুন করে জল্পনা বাসা বাঁধছে। সম্প্রতি রাজনীতি বিষয়কই কিছু পোস্ট করেছেন বাবুল সুপ্রিয় যা দেখে রাজ্যের শাসক দলের একাংশ কিছু কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি।
আরও পড়ুন- ‘মহিলাদের ক্ষমতায়নে সর্বদা কাজ করা উচিত’, কন্যাশ্রী দিবসে বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
গতকাল, শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপি নেতা সজল ঘোষকে। এক তৃণমূল নেতার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে সজল ঘোষের ক্লাব সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মদত দেওয়া ও অশান্তির পাকানো-সহ আরও নানান অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হয় সজল ঘোষকে। তবে সজলের দাবী, তাঁকে মিথ্যে অপরাধে রাজ্যের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই নিয়ে আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন বাবুল। তাঁর কথায়, তিনি সজল ঘোষকে দীর্ঘদিন ধরেই চেনেন। তাঁর অভিযোগ, “যে ভাবে ‘Terrorist-দের’ গ্রেফতার করার মতো দরজা ভেঙে সজলকে জামিন-অযোগ্যধারায় গ্রেফতার করা হলো তা চূড়ান্ত নক্কারজনক“।
তিনি আরও লেখেন, “সজল ওই এলাকায় এতো সমাজসেবামূলক কাজ করেছে যে আমি নিশ্চিত যে টিকিট পেলে ওখানকার মানুষ ওকেই নিজেরদের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করতো!! এটুকুই আশা করবো যে আদালত পুলিশের এই অনৈতিক ও অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সজলকে ন্যায়বিচার দিয়ে আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনের ওপর মানুষের আস্থার ভিত্তি আরো মজবুত করবে”।
শুধু এই পোস্টই নয়, আসানসোলে প্রাইমারি হেলথ সেন্টার চালু নকা হওয়া নিয়েও একটি পোস্ট করেন তিনি। লেখেন, “কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকল্প ন্যাশানাল আর্বান হেলথ মিশন (NUHM) থেকে টাকা যাওয়া সত্ত্বেও আসানসোলের সাত -সাতটি আর্বান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার চালু করেনি আসানসোল পুরসভা। Covid-এর সময়ে এই উদাসীনতা অপরাধের সমতুল্য। জিতেন্দ্র তিওয়ারি, যিনি বহুদিন আসানসোলের মেয়র ছিলেন, ওঁনাকে ধন্যবাদ জানাবো এই বিষয়টি আমাকে জানানোর জন্য। আমি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী Mansukh Mandaviya -এর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। উনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু বাস্তব ব্যাপারটা হল, রাজ্য সরকার ও কর্পোরেশন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি চালু করার ব্যাপারে সদিচ্ছা না দেখালে কিছুই হবে না”।
তাঁর এই সমস্ত রাজনৈতিক পোস্টের কারণেই শাসকদলের দাবী যে বাবুল চেয়েও রাজনীতি ছাড়তে পারছেন না। বারবার রাজনীতির বিষয়ে ঠিক নাক গলাচ্ছেন।
আরও পড়ুন- মুকুল রায়ের মাথার ছাদও কেড়ে নিচ্ছে কেন্দ্র, পাঠানো হল উচ্ছেদ নোটিশ, তৃণমূল সাংসদদের আবেদন খারিজ
এই বিষয়ে অবশ্য সাংসদের মত, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণে যেতে চাই না। কোনও রাজনৈতিক বিবৃতির পালটা বিবৃতি দেব না। তিনি এও জানান যে আসানসোলবাসীদের পাশে তিনি সবসময় থাকবেন। রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এমন দাবী করে বাবুল জানান, সাংসদ হিসেবে নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকবেন তিনি।





