চারমাস পর সাদা কাপড়ে মুড়ে ফিরছে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মরদেহ, ছেলের অপেক্ষায় কাতর মা

প্রায় সাড়ে চারমাস পর আজ, বৃহস্পতিবার বিজেপি কর্মী অভিজিত্ন সরকারের মৃতদেহ তুলে দেওয়া হল তাঁর পরিবারের হাতে। আদালতের নির্দেশে অবশেষে এই মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়। এনআরএস থেকে অভিজিৎ-এর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হল বিজেপির সদর দফতরে। সেখান থেকে অভিজিৎ-এর নিথর দেহ পৌঁছবে তাঁর মায়ের কাছে কাঁকুড়গাছিতে।

ভোটের ফলপ্রকাশের দিন সকালে কাঁকুড়গাছির অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। গলায় পেঁচানো ছিল তার। অভিজিৎ- এর পরিবারের দাবী, বিজেপি করার অপরাধেই তাঁকে এভাবে খুন করা হয়েছে। এরপর থেকে ছেলের বিচারের আশায় ছুটেছে তাঁর পরিবার। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার এখন তদন্ত করছে সিবিআই।

আরও পড়ুন- ‘আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে নন্দীগ্রামে কিছু করতে পারল’, ভবানীপুরে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপের

তদন্তের কারণেই এতদিন ধরে অভিজিৎ-এর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবারও নিশ্চিত ছিল না যে এই মৃতদেহ আদৌ তাদের ছেলের কী না। তবে অবশেষে ময়না তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের পরীক্ষা করে আদালত জানিয়েছে, চার মাস ধরে লাশকাটা ঠান্ডা ঘরে যে মৃতদেহ পড়েছিল, তা কাঁকুরগাছির ছেলে অভিজিৎ সরকারেরই। এবার আজ, বৃহস্পতিবার সেই মৃতদেহ পৌঁছবে তাঁর বাড়িতে।

এদিন এনআরএসে মৃতদেহ পেতে বেশ কিছুটা সমস্যায় পড়তে পেতে হয় অভিজিৎ সরকারের পরিবারকে। এমনটাই অভিযোগ করে অভিজিৎ-এর দাদা। এনআরএস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কিছুটা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলেও খবর। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। এরপর সেই মৃতদেহ পৌঁছয় বিজেপির কার্যালয়ে।

বিজেপি দফতরে অভিজিৎ সরকারের মৃতদেহ শায়িত রাখার জন্য বিশেষ বেদী তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু মৃতদেহটি চার মাস ধরে মর্গে পড়েছিল, তাই শকট থেকে দেহটি নামানো সম্ভব হয়নি। দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুরা শকটের সামনেই শ্রদ্ধা জানান। মুরলীধর সেন লেনে দাঁড়িয়ে অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, “এই লড়াই এখনও চলছে। বাড়িতে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে যাচ্ছে”।

আরও পড়ুন- ভবানীপুরে উপনির্বাচন নিয়ে আইনি পথেই হাঁটল বিজেপি, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

এদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “এই দেহ যাতে আমাদের হাতে না আসে, দেহ যাতে নষ্ট হয়ে যায় সে কারণে দেহতে কোনও কেমিক্যাল দেওয়া হয়নি। ফেলে রাখা হয়েছে। নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। প্রথমবার ময়না তদন্ত নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল আমরা আদালতে যাই। আদালত রায় দেয়। দ্বিতীয়বার ময়না তদন্ত করতে এক মাস লাগিয়ে দিয়েছে। তারপরও দেহ সংরক্ষণ করা হয়নি। তার পর দেহ ছাড়তে এতদিন সময় লাগল। বিজেপি যাতে দলীয় কর্মীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে না পারে সেই চেষ্টাও করেছে”।

RELATED Articles