টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পরও তৈরি হচ্ছে না অ্যান্টিবডি, বুস্টার ডোজ দেওয়ার অনুমোদন দিতে পারে আইসিএমআর

ভারতের বাইরে বেশ কিছু দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু ভারতে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও বার্তা দেন নি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সাম্প্রতিককালের কিছু সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে করোনার দুটি ডোজ নেওয়ার পরও অনেক ব্যক্তির শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না। এই কারণে এবার হয়ত বুস্টার ডোজ দেওয়ার অনুমোদন দিতে পারে আইসিএমআর। ট্রায়ালও চলছে এই নিয়ে।

ভুবনেশ্বের একটি গবেষণার টিমের সদস্যদের যাদের টিকার দুটি ডোজই নেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে সদস্যদের মধ্যে ২৩ শতাংশের শরীরে কোনও আ্যান্টিবডি নেই। অর্থাৎ তাদের অ্যান্টিবডির রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ এসেছে।

ভুবনেশ্বরের ‘ইনস্টিটিউট অব লাইফ সায়েন্সেস’-এর ডিরেক্টর ড. অজয় পারিদা বলেন, “করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকের শরীরে কোভিড অ্যান্টিবডির মাত্রা ৩০ থেকে ৪০ হাজার হয়ে যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে তা ৫০-এর নীচে থাকতে দেখা গিয়েছে। যদি কারও শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমান ৬০ থেকে ১০০-র মধ্যে থাকে, তাহলেই তাঁর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি রিপোর্ট পজিটিভ বলে ধরা হয়”। গোটা দেশে ২৮টি গবেষণাগারে জেনোম সিকোয়েন্সিং অর্থাৎ করোনার বিভিন্ন রূপ নির্ণয় করার প্রক্রিয়া চলছে। এই গবেষণাগারগুলির মধ্যে অন্যতম হল ভুবনেশ্বরের এই ‘ইনস্টিটিউট অব লাইফ সায়েন্সেস’।

ডঃ অজয় পরিদা আরও জানান যে সাধারণভাবে যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি কম, তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এই বুস্টার ডোজের ত্রাআল শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ভারতে আপাতত যে দুটি টিকা দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ কোভিশিল্ড ও কো-ভ্যাক্সিন, এই দুই টিকারই কার্যকারিতা ৭০ থেকে ৮০ শতানশ। অর্থাৎ বাকী ২০ থেকে ৩০শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না। বুস্টার ডোজের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এলে আইসিএমআর-এর তরফে বুস্টার ডোজ দেওকার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন- বিমানে করে আফগানিস্তানের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে গেল আইএসআই, তবে কী আফগান সরকার পরিচালনা করতে চাইছে পাকিস্তান?

সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্য়ান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুস্টার ডোজের দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এফডিএ-র এই ঘোষণায় লক্ষাধিক মার্কিনবাসী বেশ স্বস্তি পেয়েছেন। যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে বা ক্যানসার আক্রান্ত কিংবা জটিল কোনও রোগে আক্রান্ত, তাদের করোনা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। টিকার পাশাপাশি এই বুস্টার ডোজ তাদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেব। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ও ইজরায়েলেও যাদেররোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, সেই সমিস্ত ব্যক্তিদের বুস্টার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা কাদের কোনও কড়া ওষুধ চলছে, তাদের ক্ষেত্রে টিকার দুটি ডোজ মাধ্যমে একজন সুস্থ মানুষের সমান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই কারণে বুস্টার টিকা নিলে তা সাহায্য করবে।

RELATED Articles