‘আমি ঋতুকে চট করে বিশ্বাস করতাম না, ঋতু খুব ঢপ দিত’, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষকে নিয়ে হঠাৎ বিতর্কিত মন্তব্য কেন করলেন গায়ক শিলাজিৎ?

টলিউডের বেশ পরিচিত মুখ তিনি নানা বিষয়ে নিজের মন্তব্যের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন বহুবার বিতর্কিত নানা মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন তিনি এদিন সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নে বাকি হয়ে উত্তর দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় গায়ক তথা অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার নিজের কোন সত্তাকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি তার খবর দিলেন সংবাদমাধ্যমকে।

মাঝেমধ্যেই তাঁকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, গায়ক না অভিনেতা? এবারে তাঁর উত্তর দিতে গিয়ে নিজের জীবনের এক অজানা কাহিনী জানালেন এই ব্যক্তিত্ব। বললেন এই উত্তর দিতে গেলে প্রায় দুই দশক আগের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সময় ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁকে ‘অসুখ’ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একদিকে দেবশ্রী রায়, অন্যদিকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দুই দক্ষ শিল্পীর সঙ্গে অভিনয়ের কথা জানতে পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন শিলাজিৎ।

এরপর শিলাজিতের ছবিতে কাজ করার কথা প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ। কিন্তু গায়ক শিলাজিৎ ক্যামেরার সামনে কতটা সেই চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারবেন! তা নিয়ে সন্দেহে ছিলেন প্রবীণ অভিনেতা। পরিচালককে প্রশ্ন করেছিলেন, “শিলাজিৎ কী এই চরিত্রটা করতে পারবে?” সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা শিলাজিৎকে জানিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ। যা তখন খানিক মজার ছলেই নিয়েছিলেন শিলাজিৎ।

পরে হেসে বলেছিলেন, “আমি ঋতুকে চট করে বিশ্বাস করতাম না। ঋতু খুব ঢপ দিত। ও গল্প তৈরি করতে পারত। নিমেষের মধ্যে গল্প তৈরি করে দিত” প্রসঙ্গত ঋতুপর্ণার কাছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা শুনে হতাশ হয়েছিলেন শিলাজিৎ। কিন্তু সমস্ত কিছু ভুলে গিয়ে শেষমেশ শুট করেন সেই ছবির জন্য। ঋতুপর্ণ শিলাজিতের মতোই কাউকে চেয়ে ছিলেন ছবির।

আদতে শিলাজিতের লুক এবং কথা বলার ধরণ সবই মিলে গিয়েছিল পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে। এরপর শিলাজিৎ জানান, ছবিতে সৌমিত্রর সঙ্গে খুব বেশি কাজ ছিলনা তাঁর। একদিন ঘণ্টা দুয়েকের জন্য একসঙ্গে শুট করতে হয়েছিল দুই তারকাকে। অবশেষে ছবি মুক্তি পায়। রিলিজ পার্টিতে শেষমেষ মুখোমুখি হয়েছিলেন শিলাজিৎ এবং সৌমিত্র। বর্ষীয়ান অভিনেতাকে সামনে দেখেই তাঁর মাথা ঝুকে যায়। প্রণাম করেন। এরপরই শিলাজিৎকে নিয়ে নিজের সন্দেহের কথা খোলসা করে খুলে বলেন সৌমিত্র।

জানান, প্রথম যখন স্ক্রিপ্ট শুনেছিলাম তখন একটু সন্দেহ ছিল। তুমি করতে পারবে কিনা! ছবিটা দেখলাম। বেশ পরিণত অভিনেতাদের মতোই কাজ করেছ। সেই প্রশংসা শিলাজিতের কাছে জাতীয় পুরস্কারের থেকে কম ছিলনা। বর্ষীয়ান অভিনেতার কাছ থেকে ওই রকম প্রশংসা পেয়ে, শিলাজিৎ জানান, “সৌমিত্রদার কাছ থেকে যে প্রশংসা পেয়েছি তা হাজারটা জাতীয় পুরস্কার এর সমান।”

এক কথায় বলতে গেলে তিনি গায়ক-অভিনেতা উভয় সত্ত্বাকে নিয়েই চলবেন। যেভাবে তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা বর্ষীয়ান অভিনেতা করে গিয়েছেন, তার পর আর অভিনয় থেকে মুখ ফেরাবে না তিনি। অন্যদিকে সংগীত তাঁর জীবনের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে। সেটাকে কোনমতেই ছাড়বেন না অভিনেতা। তাঁর কথায় বোঝা গেল, গান এবং অভিনয় দুটোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles