চলতি বছরে দুর্গাপুজো করোনার কারণে এমনিই অন্যরকম। তার সঙ্গে এবারের পুজো একটু আলাদা দাদা সৌরভ গাঙ্গুলীর কাছেও। এইবারের পুজোতে সঙ্গে থাকছেন না স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় আর মেয়ে সানা। ইংল্যান্ডে মেয়ে সানা পড়াশুনা করছে। সেখানেই মেয়ের সঙ্গে রয়েছে মা ডোনা গাঙ্গুলীও।
এদিকে মেয়ে আর স্ত্রীকে ছাড়া এবারের পুজো কী ভাবে কাটাবেন? তা দাদা ঠিক করে ফেলেছেন। পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবেন। মঙ্গলবার ফিরেছেন ইংল্যান্ড থেকে। তারপরই একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নিজের পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করলেন বর্তমান বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী।
এদিন জানালেন দুর্গাপুজোয় শহরেই থাকছেন। তিনদিন থাকবেন। আবার ১৪ অক্টোবর চলে যাবেন আমিরশাহীতে। কারণ পরের দিনই আইপিএলের ফাইনাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর ফের ফিরবেন। কিন্তু যেকদিন কলকাতায় থাকবেন সেকদিন বিশ্রাম নেবেন। আসলে এখন খেলার কারণে তেমন বিশ্রাম পাচ্ছেন না। তাই ঠিক করেছেন তিনদিন পুরোপুরি বিশ্রাম নেবেন। তার পরেই রওনা দেবেন আমিরশাহীতে। চলতি বছরের পুজো প্রথমবার স্ত্রী আর মেয়েকে ছাড়া কাটাবেন দাদা।
এরপরই খেলা নিয়ে প্রশ্ন এলে তিনি জানালেন, আইপিএল খুব ভালোই দেখছেন। সব ম্যাচই বেশ দারুন হচ্ছে। সবথেকে বেশি ভালো লাগছে স্টেজে দর্শক ফিরেছে। তবে ভারতে হলে আরও ভালো লাগতো দাদার। কিন্তু আশা রাখছেন সামনের বছর দেশের মাঠেই আইপিএল করতে পারবেন তিনি। অন্যদিকে আইপিএলের পরেই রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাই তার প্রস্তুতিও চলছে জোড় কদমে।
পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে এদিন দাদা জানালেন, “সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনটেন করেই গ্যালারিতে ৭০% দর্শকের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাউসফুল করার অনুমতি সমস্ত বিধিনিষেধ মাথায় রেখে দেওয়া হয়নি।”
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়েও আলাদা করে কোন কিছু এবার থাকছে না। যা হওয়ার নর্ম্যালই হবে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে এখন থেকেই ভালো রকম হাইপার হয়ে উঠেছে জনসাধারণ। কারণ সেটি সবথেকে বড় ম্যাচ। আর দাদার কাছেও সেটা খুবই স্বাভাবিক। এদিন সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জানালেন, “হার্দিক পান্ডিয়া সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিষানের আইপিএলে ফর্মে না থাকা নিয়ে যেসব বলাবলি চলছে, তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমি জানি না কারা এসব বলছে। কয়েকটা ম্যাচে হয়ত রান করেনি ওরা। এটা হতেই পারে। সবাই সব ম্যাচে রান করবে সেটা হয় না। যে কোনও ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই এটা হতে পারে। তাছাড়া দুটো টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা। আইপিএলে কয়েকটা ম্যাচে রান করতে পারেনি বলে, তার মানে এই নয় যে বিশ্বকাপে রান করতে পারবে না। প্রত্যেকেই ভালো ক্রিকেটার। ঠিক পারফর্ম করবে। এইতো ঈশান কিষান সেদিন রাজস্থানের বিরুদ্ধে ভালো ব্যাট করেছে।”
দেখতে গেলে, বর্তমান বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট ভারতকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তবে শেষ ৮ বছরে আইসিসি ইভেন্ট জিততে পারেনি ভারত। সেই নিয়ে দাদা জানালেন, “ভারত যেখানে যে টুর্নামেন্টে খেলতে নামুক না কেন, সবসময় ফেভারিট হয়েই নামে। আমার টিম যথেষ্ট ভালো। ট্রফি জেতার ব্যাপারে আমি প্রচন্ড আশাবাদী।” এদিকে নিজের বায়োপিক নিয়ে তিনি জানালেন, “এখনও স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু খুব শিগগিরই তা শুরু হবে। পুরো স্ক্রিপ্ট আমি নিজেই লিখব।”
তারপর সেটা পাঠিয়ে দেবেন টিমের কাছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছুই এখনও ভেবে ঠিক করেননি যে, কী ভাবে নিজের বায়োপিকে দাঁড় করাবেন। এখন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে দিয়ে আছেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। একদিকে আইপিএল, অন্যদিকে বিশ্বকাপ। তাই বায়োপিকের লেখা কিছু দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন।





