বাঙালির গর্ব! যুদ্ধজর্জর ইউক্রেন থেকে ৮০০ পড়ুয়াকে উদ্ধার, দীর্ঘ একটানা ১৫ ঘণ্টা বিমান উড়িয়েও পরিতৃপ্তির হাসি কলকাতার মহাশ্বেতার মুখে

এক পক্ষের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধ। রুশ সেনার হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের খারকভ, কিয়েভ-সহ একাধিক শহর। এমন পরিস্থিতিতে সে দেশে আটকে পড়েন প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ডাক্তারি পড়ুয়া।

ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে ‘অপারেশন গঙ্গা’ নামের অভিযান শুরু করে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ থাকার প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি থেকে ফেরানো হচ্ছে দেশবাসীকে। এমন আবহে ভারতীয়দের উদ্ধারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এক বাঙালি সাহসিনী।

গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি এক বেসরকারি বিমান সংস্থা থেকে ফোন আসে বিমানচালক বছর চব্বিশের মহাশ্বেতা চক্রবর্তীর কাছে। আর এরপরই মাত্র দু’ঘণ্টার প্রস্তুতি নিয়ে প্রথমে নয়াদিল্লি হয়ে ইস্তানবুল ও সেখান থেকে পোল্যান্ড যান তিনি। যুদ্ধের মুখে পড়া ইউক্রেন থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধার করার জন্য বেছে নেওয়া হয় তাঁকে।

বলে রাখি, মহাশ্বেতার বর্তমান ঠিকানা নিউটাউন। গত ৬ই মার্চ কলকাতায় ফিরে উদ্ধারকার্যের স্মৃতি রোমন্থন করলেন এই বঙ্গ তনয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমি যে কত বার গিয়েছি এবং এসেছি, তা হিসেব করে দেখিনি। পড়ুয়াদের নিয়ে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি কিংবা রোমানিয়া থেকে ইস্তানবুল, সেখান থেকে দিল্লি। আবার একই ভাবে পোল্যান্ড উড়ে যাওয়া”।

এর পাশাপাশি মহাশ্বেতা আরও বলেন, “এমনও দিন গেছে যেদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছি শুধুমাত্র ব্ল্যাক কফি এবং বিস্কুট খেয়ে। কখনও কখনও নুডলস খেয়েও পেট ভরাতে হত। কাজের ব্যস্ততায় ঘুম হত না বলে খেতেও ইচ্ছে করত না”।

উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রসঙ্গে এই বঙ্গ তনয়া জানান, “সেদিন বাবা-মাকে বলেও বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনি। পরে জানতে পেরে মা বলেন, আমি কেন গেলাম সেখানে। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন আমাকে ঠিক কোন কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এখন আমার কাজের জন্য ওঁরাও ভীষন গর্বিত”।

শুধু ‘অপারেশন গঙ্গা’-ই নয়, এর আগেও করোনাকালে হংকং থেকে একাধিকবার অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, টিকা, ওষুধ নিয়ে দেশে এসেছেন মহাশ্বেতা। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রথমবার অবতীর্ণ হলেন তিনি। পড়ুয়াদের যুদ্ধজর্জর ইউক্রেন থেকে উদ্ধার করে আনতে পেরে এক তৃপ্তির হাসি দেখা গেল তাঁর মুখে।

মহাশ্বেতার কথায় ইউক্রেনে আটকে পড়া পড়ুয়াদের পরিশ্রমের কাছে তাঁর এই কষ্ট কিছুই নয়। তাঁর কথায়, “সত্যিই এ এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। পড়ুয়ারা যে রাস্তা দিয়ে ইউক্রেন ছেড়ে এসেছেন, সেখানে কোনো খাবারদাবারের দোকান ছিল না। তার মাঝেই চার দিকে গুলি ছুটছে। মাইলের পর মাইল হেঁটে তাঁরা এসেছেন পোল্যান্ড। বিমানে উঠেও ওঁদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না, যে তাঁরা নিরাপদস্থানে চলে এসেছেন। ওঁরা সে সময়ে এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, যে তখন নিজেকে ঠিক রাখাটাই ছিল কঠিন কাজ”।

আরও অন্যান্য খবর