সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে গোটা দেশে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর নির্যাতনের কাহিনীর প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি প্রশংসিত হয়েছে নানান মহলে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ছিলেন এক ইসলামিক জঙ্গি পাকিস্তানের ইয়াসিন মালিক। তিনি জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। উপত্যকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি সৈয়দের মেয়ে রুবাইয়া সৈয়দকে অপহরণ করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ইয়াসিন মালিককেই পরবর্তীতে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মান।
১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে চার বায়ুসেনার আধিকারিককে হত্যার অভিযোগ ওঠে ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এই ইয়াসিন মালিককেই তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ও বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের দ্বারা শান্তির প্রতীক বলে চিহ্নিত করা হয়।
২০০৮ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’র তরফে ইয়াসিন মালিককে তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে জনসাধারণের সামনে ‘তারুণ্যের প্রতীক’ আখ্যা দেওয়া হয়। শুধু তাই-ই নয়, সেই অনুষ্ঠানেই ইয়াসিন মালিক নিজের বক্তব্য রাখেন।
১২ মিনিটের তাঁর বক্তৃতায় সেই সময় উঠে এসেছিল ভারত বিরোধী নানান প্রচারণা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের জয়জয়কার। বেশ আশ্চর্যজনক ভাবেই সেই সময় সেখানে উপস্থিত কোনও অতিথি বা ‘ইন্ডিয়া টুডে’ তরফে ইয়াসিন মালিককে থামানোর চেষ্টা করা হয়নি।
আবার ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিককে দিল্লিতে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও সারেন। এই ইয়াসিন মালিককে রীতিমতো দেশের ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিস্থাপিত করার চেষ্টা করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার।
যে জঙ্গি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যার জন্য দায়ী, সেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকার কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে তাকে হিরো হিসেবে জনসমক্ষে পেশ করেছিল, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। তবে বিজেপি সদ্রকার ক্ষমতায় আসার পর ইয়াসিন মালিকের বাড়বাড়ন্ত শেষ হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।






