পুরভোটের পর এবার তৃণমূলের নজরে রয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তবে আগামী বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই রামপুরহাটের বগটুই গণহত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। এই ঘটনায় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জেলাস্তর পর্যন্ত নানান ধরণের দুর্নীতির কথা উঠে এসেছে যার প্রমাণ ভাদু শেখ, আনারুল হোসেনের মতো নেতার প্রাসাদসম সব অট্টালিকা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এই ধরণের নেতাদের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টায় রয়েছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু তাতেও অস্বস্তি কাটছে না। গতকাল, বৃহস্পতিবারই এক কর্মীসভায় দলের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে কার্যত অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন দলেরই দুই নেত্রী। সভা শেষে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও স্বীকার করে নেন যে দুর্নীতি হচ্ছে।
এদিন সন্ধ্যায় মালদার সাহাপুরে তৃণমূলের এক কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন এই সভায় হাজির ছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র, প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।
এই কর্মীসভা থেকেই সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, “যে সমস্ত প্রধান, সভাপতি দলের হয়ে কাজ করছেন না, আর তাদের পায়ে পড়ার দরকার নেই। একটা বছর রয়েছে। সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দলের হয়ে কাজ করুন, তাদেরকে ছেড়ে দিন। যাঁরা এখনও শুধরাচ্ছেন না, তাঁরা এক বছরে শুধরোবেন না। আর দলকে ভাঙিয়ে যদি কেউ মনে করেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাব, দলের ক্ষতি করব, দয়া করে চলে যাবেন। পথ খোলা আছে। আমিও এই জেলার মন্ত্রী, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নীচু স্তরে দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু লোক আছে, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে দলকে বদনাম করতে চান। যদি আমার নামেও কেউ কিছু বলে থাকে, যাচাই করে নিন। আমাকে ফোন করে জানান”। এই একই অভিযোগ শোনা যায় সাবিত্রী মিত্রের গলাতেও।
সভা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেত্রীদের এই অভিযোগ কার্যত মেনে নেন ফিরহাদ। তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও বলেন, “কেউ যদি প্রকাশ্যেই চুরি করে, তাকে প্রকাশ্যেই ভর্ৎসনা করা উচিত। মানুষ দেখতে পাচ্ছে দুর্নীতি হচ্ছে, এবার আমরা যদি মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখি, তাহলে তো মানুষ ক্ষমা করবেন না। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তো বলছেন প্রকাশ্যে দুর্নীতি হচ্ছে”।





