গতকাল, বুধবার আসানসোলের সিবিআই আদালতের তরফে গরু পাচারকাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আসানসোল সংশোধনাগারে ঠাঁই হয়েছে অনুব্রতর। এরপর আজ, বৃহস্পতিবার বেলার দিকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য অনুব্রতকে নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে বেঁধে যায় বিপত্তি।
আসানসোল জেল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালের দূরত্ব মোটামুটি দুই কিলোমিটার। এই গোটা রাস্তাজুড়ে ছিল পুলিশি পাহারা। কিন্তু হাসপাতালে অনুব্রতর কনভয় পৌঁছতেই বেঁধে গেল গোল। জানা গিয়েছে, এদিন অনুব্রতর হাসপাতালে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটে। এদিন আসানসোল জেলা হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাহত হয় এমারজেন্সির পরিষেবা।
সূত্রের খবর, এদিন অনুব্রত মণ্ডল চিকিৎসা করাতে আসার কারণে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ভিড় জমে যায়। এসবের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয় আউটডোরের টিকিট কাউন্টার। দীর্ঘক্ষণ ধরে টিকিটের লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন রোগীরা। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও টিকিট কাউন্টার খোলে নি। এর জেরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সাধারণ মানুষ।
এদিন চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে অনেককে। জানা গিয়েছে, এমারজেন্সি ঘিরে রাখেন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা। কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেন নি তারা। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখে কার্যত কুলুপ আঁটে পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডলের জন্য সাধারণ মানুষকে কেন এভাবে হয়রানি পোহাতে হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
অনুব্রত মণ্ডলের চিকিৎসা করানোর কথা থাকলেও, তিনি নিজের মতো কনভয়ে করে এসে হাসপাতালের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন। তাঁর নানান স্বাস্থ্যপরীক্ষা হবে, এটা তো সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এর জন্য আউটডোর বা এমারজেন্সি পরিষেবা কেন বন্ধ রাখা হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি। পুলিশকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কার্যত সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেও কোনও জবাব মেলেনি। তবে রোগীদের বিক্ষোভ দেখানোর পর বেশ কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় আউটডোর পরিষেবা।






