‘আমি কিছু অন্যায় কিছু করেছি নাকি, শুধু দেখতে থাকুন’, বেকসুর খালাস হওয়ার পরই স্বমজাজে কেষ্ট

গরু পাচার মামলায় আপাতত জেলেই রয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। তবে ১২ বছর আগেকার মঙ্গলকোট বিস্ফোরণ মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস করেছে বিধাননগরের এমপি-এমএলএ আদালত (MP-MLA court)। আর সেই মামলা থেকে রেহাই পেতেই যেন নিজে চেনা ভঙ্গিতে ফিরলেন বেতাজ বাদশা। সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বললেন, “সত্যের জয় হল। এটা ২০১০ সালের কেস। মিথ্যা মামলা করেছিল। আমি ছাড়া বাকি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তাঁরাও বেকসুর খালাস হয়েছেন”।

গতকাল, বৃহস্পতিবারই নেতাজি ইন্ডোর থেকে তৃণমূলের সমাবেশে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে বীরের সম্মান দিয়ে অনুব্রতকে ফিরিয়ে আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্য প্রসঙ্গে এদিন অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জবাব দেন, “আমি কি অন্যায় কিছু করেছি নাকি? শুধু দেখতে যান, আর দেখতে যান”

এদিন এই মামলায় অনুব্রতর সঙ্গে যারা অভিযুক্ত ছিলেন সেই ১৪ জনকেও বেকসুর খালাস করে দিয়েছে এমপি-এমএলএ আদালত। এই মুহূর্তে অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় আসানসোল জেলে বন্দি রয়েছেন। আজই তাঁকে বিধাননগরের আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে এদিন সওয়াল-জবাবের পর অনুব্রতর বিরুদ্ধে যথাযথ তথ্য মেলেনি বলে জানান তাঁর আইনজীবী। এই কারণেই তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়।

বলে রাখি, ২০১০ সালের ৫ মার্চ মঙ্গলকোট থানার লাখুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মল্লিকপুর গ্রামে সন্ধেবেলা বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। বোমা বিস্ফোরণে কেবুলাল শেখ নামের একজন ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই বছরই অক্টোবর মাসে চার্জশিট দেয় মঙ্গলকোট থানা। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

এই মামলার চার্জশিটে নাম রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল-সহ মোট ১৫ জনের। মঙ্গলকোট বিস্ফোরণ মামলার চার্জশিটে নাম উঠেছিল কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজের। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি হলেও, তাঁর গ্রেফতারির আগে পর্যন্ত তিনি তিনটি বিধানসভার সাংগঠনিক কাজ দেখতেন। এই তিন বিধানসভা হল কেতুগ্রাম, আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোট। ২০০৯ সাল থেকেই এই সমস্ত এলাকায় কেষ্টর যাতায়াত।

তবে বীরভূমের তৃণমূলের দাবী, সেদিন ওই ঘটনার সময় অনুব্রত মঙ্গলকোটে ছিলেন না। তিনি ছিলেন লাভপুরে। তৃণমূলের তরফে দাবী করা হয়েছে যে বুদ্ধবাবুর পুলিশ সেই সময় মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছিল অনুব্রতকে।

আরও অন্যান্য খবর