সালটা ২০১৮ সালের ১৩ ও ১৪ই মে-র মাঝের রাত। ক্যাটারিংয়ের কাজ সেরে কাকদ্বীপের বুদাখালি গ্রামে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন বছর ২০-এর এক যুবক। বাড়ির কিছুটা আগে থেকেই পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে ঠেকছিল তাঁর। বাড়ির সামনে যেতেই যেন মাটি থেকে পা সরে গিয়েছিল সেদিনের সেই যুবকের।
ঘরটা একেবারে পুড়ে গিয়েছে। আর সেই পোড়া ঘরের মধ্যে দলা পাকিয়ে রয়েছে দু’টি পোড়া মৃতদেহ। একটি ওই যুবকের বাবা দেবু দাসের, অন্যটি তাঁর মা ঊষারানি দাসের। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কাকদ্বীপের এই সিপিএম দম্পতি দেবু ও ঊষারানি দাসকে পুড়িয়ে মারা হয়। সেই ঘটনা গোটা রাজ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেদিন শুধু একটা ঘর বা দু’টি দেহ পোড়ে নি, পুড়েছিল গোটা বাংলা।
সেই মৃত দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস সেদিনই চোয়াল শক্ত করে পন নিয়েছিলেন যে মা-বাবার খুনিদের নিজে শাস্তি দেবেন তিনি। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু ওকালতি পড়া। গতকাল, বুধবার ওকালতি পরীক্ষার ফল বেড়িয়েছে। ৮১ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেছেন দীপঙ্কর। হয়েছেন উকিল।
সেদিনের সেই ঘটনার পর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে মা-বাবার খুনের মামলা নিয়ে হাজির হয়েছিল দীপঙ্কর। সিপিএমের সূত্র ধরেই পৌঁছেছিলেন হাইকোর্টে। সিপিএম সামগ্রিকভাবে তাঁর দায়িত্ব নেয়।
এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমে দীপঙ্কর বলেন, “বিকাশ স্যার, সব্যসাচী স্যাররাই উদ্যোগ নিয়ে আমার পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কর্মচারী ইউনিয়ন আর্থিক সাহায্য করেছিল। তারপর আমি কিংস্টন ল কলেজে আইন নিয়ে ভর্তি হই”।
তাঁর কথায়, “বাবা-মায়ের খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই এতদূর আসা। সেটা করবই”। দীপঙ্কর আরও বলেনব, “আমার বাবা ছিলেন সিপিএম পার্টির সক্রিয় সদস্য। যে রাতে বাবা-মাকে ওরা পুড়িয়ে মেরেছিল, তার পরের দিন সকালে ছিল পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন। ওরা আমার বাবা-মাকে খুন করে সারা এলাকায় ভয় ধরাতে চেয়েছিল। আজ পর্যন্ত দোষীরা শাস্তি পায়নি। সেটা আমিই এবার করব”।
দীপঙ্করের এই রেজাল্ট নিয়ে সিপিএমের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেন, “পার্টি দীপঙ্করের দায়িত্ব নিয়েছিল। ও খুবই ভাল রেজাল্ট করেছে। এবার বাবা-মায়ের খুনিদের শাস্তির জন্য ওই লড়বে”।
এখন দীপঙ্কর সোনারপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকেন। বেশ কিছুদিন ধরে আবার সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের জুনিয়র হিসেবে কাজও করছেন তিনি। তিনি কাকদ্বীপে যাবেন কী না, সেই প্রশ্নের উত্তরে দীপঙ্কর বলেব, “যাই না। ওখানে কিছুই তো নেই। তবে একদিন ঠিক যাব। যেতে তো হবেই”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার