তাদের অল্প একটু দেখতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয় পর্যটকদের। আবার কোনও কোনও সফরে খালি হাতেই ফিরতে হয়। তবে এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন পর্যটকরা। একটা নয়, দুটো নয়, একসঙ্গে চার চারটে রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের দেখা মিলল সুন্দরবনে।
গতকাল সোমবার, সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্পের সজনেখালি রেঞ্জ অফিসের চোরাগাজিখালি জঙ্গলের কাছে প্রথমে একটি বাঘিনীর দেখা পান পর্যটকরা। এরপর ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে ওই বাঘিনীর পিছনেই ছিল আরও তিনটি বাঘ। দুটি পূর্ণবয়স্ক ও দুটি শাবক। চার বাঘের একসঙ্গে নদী সাঁতরানোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হল এদিন।
সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ থাকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আর সেখানে অতি সহজেই একসঙ্গে চারটি বাঘের দেখা পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। এমনভাবে শাবকদের নিয়ে কবে শেষ বাঘিনীদের দেখা গিয়েছে, তা বনদফতরের আধিকারিকরাও মনে করতে পারছেন না। পর্যটকরা তো বটেই, গাইডরাও এমন দৃশ্য দেখে বেশ খুশি। সুন্দরবন জঙ্গলে যে বাঘের পরিমাণ বাড়ছে, এমন দৃশ্য তারই প্রমাণ।
শীত পড়ার আগেই মনোরম আবহাওয়ায় সুন্দরবন ভ্রমণ শুরু হয়েছে। গতকাল, সোমবার সুন্দরবনের জঙ্গলে ভালোই ভিড় ছিল। সকাল থেকেই বাঘ দেখার জন্য পর্যটকদের কয়েকটি বোট ঘোরাফেরা করছিল। বেলা বাড়তেই আরও বেশি পর্যটকদের বোট চলে আসে সেখানে। এরপর সকলে মিলে যা দেখলেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
এই বিষয়ে ভ্রমণ সংস্থার পক্ষে এক কর্তা বলছেন, “চারটি বাঘ একসঙ্গে প্রথম আমরাই দেখতে পাই এবং অনেক কাছ থেকে। সত্যিই এক বিরল দৃশ্য। প্রায় দু-আড়াই ঘণ্টা ধরে বাঘ এবং বাচ্চাকে জঙ্গল থেকে ওঠানামা করতে এবং নদীতে সাঁতরাতে দেখা যায়”।

বাঘিনীরা অনেক সময় শাবকদের পুরুষ বাঘের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নানান ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয়। এক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই সুযোগেই পর্যটকরা বাঘ দর্শন সেরে ফেললেন বেশি কষ্টশিষ্ট না করেই। নদীতে একটু ভাটা পড়তেই শাবকগুলিকে এক দফা সাঁতারও শেখাল বাঘিনী। সেই দৃশ্যও দেখা গেল বোটে দাঁড়িয়েই।
ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর তাপস দাস এ বিষয়ে বলেন, ”চারটি বাঘকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে সজনেখালি রেঞ্জ অফিসের চোরাগাজিখালির জঙ্গলে। মূলত চারটি বাঘকে এভাবে দেখতে পাওয়া সত্যিই খুব বিরল ঘটনা। এটা থেকে প্রমাণ হয়, সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘ বাড়ছে। চারটি বাঘের মধ্যে দুটি ছোট এবং দুটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ বলে মনে করা হচ্ছে”।





