দলীয় কার্যালয় (party office) দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বাঁধল বিবাদ। এর জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পানিহাটি (Panihati) এলাকা। পানিহাটির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এক দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরের (TMC Councilor) মধ্যে বাঁধে বচসা। আর তা গড়ায় হাতাহাতিতেও। এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের চারজন আহত হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার সন্ধ্যেবেলা উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার মহেন্দ্রনগর এলাকায় হঠাৎই তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাঁধে। যে এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে সেটি ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। অভিযোগ, এই ওয়ার্ডের পুরনো কাউন্সিলর টুলু রাণী দাস ও বর্তমান কাউন্সিলর স্বপন কুণ্ডুর মধ্যে ঝামেলা দীর্ঘদিনের। এদিন সেই ঝামেলা হাতাহাতিতে পৌঁছয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পানিহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডটি মহিলা সংরক্ষিত করা হয়েছে। সেই কারণে সেখানে এবার টুলুরাণীকে প্রার্থী করা হয়। তিনি এতদিন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তাঁর জায়গায় নতুন প্রার্থী হন স্বপন কুণ্ডু। ভোটে জিতে তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়েছেন স্বপনবাবু।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দুই কাউন্সিলরের মধ্যে নানান কারণে ঝামেলা বেঁধেই থাকে। এলাকা ও দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বাঁধে এই ঝামেলা। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন কুণ্ডুর অভিযোগ, সোমবার তিনি নিজের ওয়ার্ডে একটি দলীয় কার্যালয় খুলতে গেলে ওই ওয়ার্ডের পুরনো কাউন্সিলর বাধা দেন। এরপর ওই কাউন্সিলরের দলবল চড়াও হয়।
স্বপনবাবু অভিযোগ করেন যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও তিনি নিজের ওয়ার্ডে কোনও দলীয় কার্যালয় খুলতে পারছেন না। এর ফলে মানুষকে পরিষেবা দিতেও পারছেন না ঠিকমতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে গতকাল, সোমবার টুলুরাণীর ও তাঁর দলবল মিলে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টুলুরাণী দেবী। পাল্টা স্বপন কুণ্ডুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় মহেন্দ্রপুর এলাকায়। অশান্তির খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় ঘোলা থানার পুলিশ। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এখনও এলাকার পরিবেশ থমথমে।





