যদি নিয়ম না মানা হয়, তাহলে টেট পরীক্ষাই বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। টেটে এক মামলার শুনানি চলাকালীন পর্ষদকে এমন কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতি। এর আগে পর্ষদের সুখ্যাতি করলেও, নিজের সেই মন্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পর্ষদ বন্ধুর মতো আচরণ করছে না। আমি আমার আগের মন্তব্য প্রত্যাহার করছি, যেখানে বলেছি নিয়োগে বাধা দেব না। এখন যদি দেখি আইন মানা হচ্ছে না পরীক্ষা বন্ধ করে দেব”।
বলে রাখি, এর আগেও পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে আদালতের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়েছে। কেউ অভিযোগ করেছেন যে উত্তরপত্রে এক নম্বর রয়েছে আবার তালিকায় অন্য নম্বর। কোথাও আবার খাতায় সমস্যা রয়েছে। আবার ২০১৪ ও ২০১৭ সালের টেটের পরীক্ষার্থীদের ফলপ্রকাশে নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই শুনানিতেই কড়া মন্তব্য বিচারপতির।
১১ হাজার ৭৬৫ শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। টেটে প্রার্থীরা যে নম্বর পেয়েছে, সেই ভিত্তিতেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নম্বর দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দু’টি টেটে উত্তীর্ণ হলে কোন টেটে বেশি নম্বর পেয়েছে, সেই ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন প্রার্থীরা।
সেই কারণে টেটে প্রাপ্ত নম্বর জানাটা খুবই জরুরি। গত ৩রা নভেম্বর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই ভিত্তিতে যে সমস্ত প্রার্থী ২০১৭ সালের টেটে ৮২ নম্বর পেয়েছেন, তাদেরও টেট উত্তীর্ণ বলেই গণ্য করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পর্ষদ ৭ই নভেম্বর ২০১৭-র সংরক্ষিত বিভাগের ৮২ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের টেট উত্তীর্ণ বলে ঘোষণা করে। তবে এদিন ২০১৪ নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তা নিয়ে মামলাও হয়েছিল। অবশেষে এদিন পর্ষদ হাইকোর্টে জানায় যে আগামী শুক্রবারের মধ্যে ২০১৪-র সংরক্ষিত বিভাগের ৮২ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের টেট উত্তীর্ণ বলে ঘোষনা করা হবে। এদিনই তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।






