কামড়ের পর এবার চিমটি কাটার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, কালীঘাটে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের জেরে রণক্ষেত্র এলাকা

প্রায় প্রতিদিনই কলকাতার কোথাও না কোথাও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। দ্রুত নিয়োগের দাবীতে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান তারা। আজও আন্দোলনকারীরা পথে নেমেছেন। এদিন প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থীরা কালীঘাট মেট্রো থেকে বেরিয়ে হাজরার দিকে যাওয়ার সময় তাদের পথ আটকায় পুলিশ। বেঁধে যায় বচসা, হাতাহাতি। চাকরিপ্রার্থীদের টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় বলে জানা গিয়েছে।

এক আন্দোলনকারীর কথায়, “আমরা দ্রুত নিয়োগ চাই। দ্রুত চাকরির আশ্বাস চাই। এতদিন পর্যন্ত আমরা পথে বসেছি। আন্দোলন করেছি। আমরা যোগ্য। তাও কেন আমরা চাকরি পাব না?’ আর এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘দেখুন কী করছে ওরা। আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। ন্যায্য পথে আমরা আন্দোলন করছিলাম। তখন আমাদের পথ আটকায়”।

এদিন মহিলা পুলিশ কর্মীরা মহিলা বিক্ষোভকারীদের টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে। তাদের নিগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবী করেন এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী। বিক্ষোভকারীরা এও অভিযোগ তোলেন যে পুলিশ তাদের চিমটি কেটেছে। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে তাদের। এই ধ্বস্তাধস্তিতে অনেক চাকরিপ্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এক মহিলা আন্দোলনকারী বলেন, “আমার জামা ছিঁড়ে দিয়েছে। চিমটি কেটেছে। আঁচড়ে দিয়েছে। দেখুন কী অবস্থা করেছে। আমাকে চুলের মুঠি ধরে সরিয়ে দিয়েছে। ওরা আমাদের উপর অত্যাচার করছে”।

চাকরিপ্রার্থীরা আজ মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মমতা রয়েছেন ঝাড়গ্রামের সফরে। আর চাকরিপ্রার্থীরা এই হাই-সিকিউরিটি এলাকাকেই বিক্ষোভ দেখানোর জন্য বেছে নিয়েছেন। কিন্তু এবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিল।

বলে রাখি, চাকরিপ্রার্থীদের মারধর করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। কিছুদিন আগেই সল্টলেক চত্বর থেকে মাঝরাতে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। এমনকি, কিছুদিন আগেই ক্যামাক স্ট্রীটে বিক্ষোভের সময় এক চাকরিপ্রার্থীর হাতে পুলিশের কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তা নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়। আর এবার এক চাকরিপ্রার্থীকে চিমটি কাটার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে।

RELATED Articles