স্কুলের দুপুরে মিড ডে মিলের খাওয়াদাওয়া চলছিল। লাইন দিয়ে একসারিতে বসেছিল পড়ুয়ারা। তাদের ভাত বেড়ে দিচ্ছিলেন রান্নার দায়িত্বে থাকা মহিলারা। সেই সময়ই হঠাৎ করে স্কুলে উপস্থিত হন বিডিও। আর সামনের দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক হয়ে তিনি। দেখেন যে কুকুর-ছাগলদের পাশে বসেই মিড ডে মিল খাচ্ছে পড়ুয়ারা।
এমন ঘটনা ঘটল রাজগঞ্জ ব্লকের মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের পাথরঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রাস্তার পাশে এই স্কুলে দুপুরের খাবার বিলি চলছিল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও পঙ্কজ কোনার।
যাওয়ার পথে আচমকাই স্কুলে ঢুকে পড়েন তিনি। মিড ডে মিলের রান্নাঘরের হাল খতিয়ে দেখেন। কী কী মশলা দিয়ে রান্না করা হচ্ছে দেখলেন তাও। ছোটদের জন্য রান্নার গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কিনা, খোঁজখবর করেন পঙ্কজবাবু।
এরপর ক্লাসরুমে আসতেই তাঁর চোখে পড়ে যে পড়ুয়াদের খাবার খাওয়ার জন্য কোনও ঘর নেই স্কুলে। এমনকি, আচ্ছাদন দেওয়া কোনও জায়গাও নেই যেখানে বসে খাওয়ার খাওয়া যায়। সেই কারণে খোলা বসেই মিড ডে মিল খাচ্ছে পড়ুয়ারা। আর তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর, ছাগল, বিড়ালরা।
এই দৃশ্য দেখে অস্বস্তিতে পড়ে যান বিডিও। অবিলম্বে আচ্ছাদন তৈরি করার নির্দেশ দেন স্কুল শিক্ষকদের। এই বিষয়ে বিডিও বলেন, “স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নজরে আসে ছাত্র-ছাত্রীরা মিডডে মিল খাচ্ছে। তাই স্কুলে ঢুকে পড়লাম। স্কুলে ডাইনিং রুম এবং শেড দেওয়া জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষকদের আবেদন করার নির্দেশ দিলাম”।
স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে ছোটোদের এভাবে খাবার খেতে অসুবিধা হয়। বিডিও একথা জানতে পেরে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাতে বেশ খুশি হন তারা।






