রয়েছে নিজের দোতলা বাড়ি, ওষুধের দোকান, জমি-পুকুর, তাও নাম আবাস যোজনার তালিকায়, তুমুল বিতর্কে তৃণমূল নেতা

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আবাস যোজনা নিয়ে এখন রাজ্য ও রাজনীতি বেশ সরগরম। প্রতিনিয়ত এই যোজনার তালিকা নিয়ে নানান দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। বড় বড় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাস যোজনার তালিকায় নাম উঠছে নানান তৃণমূল নেতা বা তাদের স্ত্রীদের। আর যারা সত্যিকারের ঘরহারা, তারাই থেকে যাচ্ছেন ব্রাত্য। এবার ফের একবার তেমনই অভিযোগ সামনে এল।  

সূত্রের খবর, চাকদহের শিরিন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উদবাস্তু কমিটির ব্লক সভাপতি সুব্রত হালদারের পাকা বাড়ি রয়েছে। আছে ওষুধের দোকান, জমি ইত্যাদি। ২০২১ থেকে তৃণমূল করছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, সুব্রতবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক লক্ষের কাছাকাছি হবে। কিন্তু এরপরও আবার যোজনার নামের তালিকায় তাঁর নাম জ্বলজ্বল করছে।

তৃণমূল নেতা সুব্রত হালদারের স্ত্রী মুনমুন হালদার স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “এই পুরো বাড়িটি আমাদের। আর পাশের বাড়িটিতে আমাদের পুরো পরিবার থাকে”।

তৃণমূল নেতার দাদা বলরাম হালদার বলেন, “ওর নাম কী করে আবাস যোজনার তালিকায় রয়েছে তা আমি জানি না”। অন্যদিকে, এলাকার পঞ্চায়েত সমিটির সভাপতি হরপ্রসাদ হালদার বলছেন, সুব্রতরা চাইলে অন্য কাউকে বাড়ি দিতে পারেন। অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, “না আবাসের বাড়ি পাওয়ার যোগ্য ওরা নয়। তবে আমার মনে হচ্ছে এর পিছনে কোনও অভিসন্ধি আছে”।

এদিকে আবাস যোজনার তালিকায় সুব্রতবাবুর নাম দেখে কার্যত হতবাক এলাকাবাসী। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সুব্রত হালদারকে এমনি চিনি”।

বিরোধীদের অভিযোগ, নিজের প্রভাব খাটিয়ে আবাস যোজনার তালিকায় নাম তুলেছেন সুব্রতবাবু। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা ষড়যন্ত্রের দাবী তুলে সুব্রতবাবু বলেন, “যা নিয়মকানুন রয়েছে তাতে আমার বাড়ি পাওয়ার কথা নয়। এটা উপর থেকে কারা দিয়েছে, কেন দিয়েছে, কিছুই আমি জানি না। আমার তো মনে হয় চক্রান্ত। কী কারণে ঘর দিতে আসবে”?

জানা গিয়েছে, তিনি একা নন, এই তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর দাদা-বৌদিরও। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, “পিযুষ হালদার যেটা লেখা আছে ওদের ঘরের প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রয়োজন নেই। আসলে ঘরের এই সিস্টেমটাই জানা নেই”।

আরও অন্যান্য খবর