দলের কর্মীকেই গলা টিপে খুন করার চেষ্টার অভিযোগে আজ, মঙ্গলবার দুবরাজপুর থানার (Dubrajpur Police Station) পুলিশ গ্রেফতার করে গরুপাচার মামলায় (cattle smuggling case) ধৃত অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mandal)। রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরও কেষ্টর সঙ্গ ছাড়লেন না রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। গতকাল, সোমবারও অনুব্রতকে ‘বীরভূমের বাঘ’ বলেছিলেন তিনি। আজ অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর ফিরহাদ বললেন, “আইন আইনের পথে চলবে, তা বলে কাউকে বীরের সম্মান দেব না”?
এদিন ফিরহাদ বলেন, “আইন সবার ওপরে। আইন আইনের পথে চলবে। আইন থাকা মানেই যে বীরের সম্মান দেব না তা নয়। কেউ অভিযোগ করেছে। তাতে আইনত যা হওয়ার হবে”। সাংবাদিকদের পালটা প্রশ্ন করে ফিরহাদ বলেন, “বাঘ খাঁচায় ঢুকলে সে বাঘ থাকে না না কি”?
উল্লেখ্য, গত মাসেই রামপুরহাটের এক সভা থেকে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “কেউ কেউ এখানে আসছে, বীরভূমে একটু লাফালাফি করছে। টিভি চ্যানেলে দেখা যায় বনের বাঘ একদিক থেকে অন্যদিকে গেলে শিয়ালগুলো লাফালাফি করে। আবার যেই বাঘ আসে, শিয়ালও লেজ তুলে পালিয়ে যায়। বীরভূমের বাঘকে তোমরা কিছুদিনের জন্য খাঁচায় রেখেছ। সারা জীবন পারবে না। সেই বাঘ যখন আবার বেরিয়ে আসবে, আজকে যে শিয়ালগুলো হুক্কাহুয়া হুক্কাহুয়া করছে, তারা সব খাঁচায় ঢুকে যাবে”। বলে রাখা ভালো, সেই সময়ও বিচারাধীন ছিলেন কেষ্ট।
গতকাল, সোমবারই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট রায় দিয়ে জানিয়েছে যে গরু পাচার মামলায় জেরার জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যেতে পারবে ইডি। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার সকালেই অনুব্রতকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। জানা যাচ্ছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক তৃণমূল কর্মীকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করেছিলেন অনুব্রত। সেই মর্মে গতকাল দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই তৃণমূল কর্মী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ কেষ্টকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিন অনুব্রতকে নিয়ে যাওয়া হয় দুবরাজপুর আদালতে। আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপরই আদালত থেকে অনুব্রতকে নিয়ে গাড়ি পৌঁছয় দুবরাজপুর থানায়। এই গ্রেফতারি নিয়েই এবার তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। তাদের দাবী, অনুব্রতর দিল্লি যাওয়া ঠেকাতেই কৌশলে তাঁকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিল রাজ্য পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এ বলেন, “এটা সম্পূর্ণ আইনের ব্যাপার। যদি কোনও মামলা থাকে, গ্রেফতার হয়েছেন, এটা আইনের মধ্যেই পড়ছে। এ বিষয়ে দলের তরফ থেকে আলাদা করে বলার কোনও কারণ ঘটেনি। যেমন বাংলার কোনও ঘটনার তদন্তে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করার আবেদনটাও আইনের মধ্যে পড়ে, তেমনই অন্য মামলা থাকতে তাতে গ্রেফতার করাটাও আইনের মধ্যেই পড়ে। যদি দিল্লি থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট আইনসিদ্ধ হয়, তাহলে বাংলার কোনও আদালতের প্রোডাকশন ওয়ারেন্টও একইভাবে আইনসিদ্ধ হয়। গোটাটা আইনের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি দলে কিছু দেখতে পাচ্ছি না”।





