রক্ত শুষে নিচ্ছিল পিলে, রক্তশূন্য হয়ে পড়ে আট বছরের শিশুর শরীর, বিরল অস্ত্রোপচার করে শিশুকে সুস্থ করলেন রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা

শিশুর শরীর থেকে রক্ত শুষে নিচ্ছিল পিলে। এর জেরে ঘন ঘন রক্তশূন্য হয়ে পড়ছিল শিশুর শরীর। সেই সমস্যা থেকে শিশুকে বাঁচাতে ‘স্প্লিনেকটমি’ করে তার পিলে কেটে বাদ দিলেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পিলে অর্থাৎ প্লীহা রক্তের রিজার্ভার হিসেবে কাজ করে। জানা গিয়েছে, সেই প্লীহাই বড় হয়ে গিয়েছিল থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বছর আটের মহম্মদ সাকিবের শরীরে। প্লীহা বড় ও থ্যালাসেমিয়া, এই দুইয়ের কারণে বারবার রক্তশূন্য হয়ে পড়ছিল তার শরীর। খিদে কমে আসছিল। শিশুকে নিয়ে কোথায় যাবেন, কিছুই ঠাওর করতে পারছিলেন না তার মা-বাবা।

এমন অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে যান শিশুর মা-বাবা। চিকিৎসকরা তাকে দেখার পর ভর্তি করে নেন হাসপাতালে। মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন ‘স্প্লিনেকটমি’ করে শিশুটির প্লীহা বাদ দেওয়া হবে। গতকাল, বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক ডাক্তার রজত ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-সহ মোট ৬ জনের টিম প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অপারেশন করেন। সফল হয় সেই অপারেশন। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে শিশুটি।

শিশুটির মা সইরম বানু জানান যে তাঁর স্বামী পেশায় দিনমজুর। কোনওমতে সংসার চলে তাদের। প্রতিমাসে ছেলেকে এক বোতল করে রক্ত দিতে হয়। এই রক্ত জোগাড় এবং চিকিৎসা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছিল তাদের কাছে। গত কয়েকমাস ধরে তাদের সন্তান আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছিল জানান তিনি। এই অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তার সন্তানকে ভর্তি করে নেওয়া হয়।

চিকিৎসক রজত ভট্টাচার্যের কথায়, শিশুর শরীরে প্লীহা বড় হয়ে যাওয়ায় রক্তের জোগান হচ্ছিল না। তবে অস্ত্রোপচারের ফলে সেই সমস্যা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি। থ্যালাসেমিয়ার কারণে প্রতিমাসে শিশুকে বাইরে থেকে রক্ত দিতে হত। এবার সেই প্রয়োজনীয়তা অনেকটা কমবে বলে জানান চিকিৎসক।

এই ঘটনায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ চিকিৎসক ডাক্তার কল্যান খাঁ বলেন, “অত্যন্ত জটিল অপারেশন ছিল। প্লিহা একদিকে যেমন শরীরে রক্তের রিজার্ভার। অপরদিকে প্লিহা বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। পিলে বাদ যাওয়ার ফলে শরীরে বাড়তে পারে ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ তাই আগেভাগে ভ্যাক্সিন-সহ অন্যান্য ওষুধ প্রয়োগ করে আগাম ব্যাবস্থা নিয়ে এই জটিল অপারেশন করা হয়”।

আরও অন্যান্য খবর