“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন”, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) এহেন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল তাঁর এই মন্তব্যকে সমর্থন জানালেও, অন্যান্য দল কোনওভাবেই এই মন্তব্য মেনে নিতে রাজি নয়। বিজেপি (BJP) তো বটেই, সিপিএম ও কংগ্রেসও (BJP-Congress) অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে।
সম্প্রতি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে তিনি সংশয় প্রকাশ করে তিনি এও বলেন যে বিজেপির বিরুদ্ধে জনরোষকে কাজে লাগিয়ে সব শক্তিকে মমতা একত্রিত করতে পারবেন কী না, সেটা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল। দলের জাতীয় মুখপাত্র সুখেন্দুশেখর রায় বলছেন, “বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে দেশের মানুষের কাছে বার বারই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ মমতা দিয়েছেন”।
তৃণমূল ছাড়া আর কোনও দলই অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যকে সমর্থন করে নি। কড়া ভাষায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের এই মন্তব্যের কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “নিজের নিজের রাস্তা সাফ করছেন সবাই। প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে সিট লাগে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে টাকার থলি নিয়ে ঘুরে ঘুরেও একজনকেও জেতাতে পারলেন না, পঞ্চায়েতেও জেতাতে পারলেন না। অমর্ত্য সেনদের পুরোনো টার্গেট মোদীকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাবেন। দিদিকে নিয়ে সেই স্বপ্নটা দেখছেন উনি”। অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সুর আরও চড়িয়ে বলেন যে প্রতিচির দরজাতেও পদ্মফুল ফুটবে এবার।
অমর্ত্য সেন এমনিতেই বারবার বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতাই করে এসেছেন। তিনি বামমনস্ক বলেই পরিচিত। কিন্তু বামেরাও অর্থনীতিবিদের এই মন্তব্যে বেশ ক্ষুব্ধ। এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, “অমর্ত্য সেন বাইরে থেকে দেখে মন্তব্য করেছেন। বিজেপিকে হারাতে হলে সব বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে বিরোধী জোট ভাঙতে মোদীর অস্ত্র মমতাই”।
আবার কংগ্রেসও নোবেলজয়ীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন মমতাও দেখেন। কিন্তু কংগ্রেসকে ছাড়া কেউ সব বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করতে পারবে না”।





