‘পড়ুয়া না থাকলে, শিক্ষক পুষে লাভ নেই, যেখানে ছাত্রছাত্রী রয়েছে সেখানে পাঠান শিক্ষকদের’, শিক্ষক বদলি মামলায় পর্যবেক্ষণ বিচারপতি বসুর

যদি স্কুলে পড়ুয়া না থাকে, তাহলে শুধুশুধু শিক্ষক পুষে লাভ নেই। দিল্লি যদি মডেল স্কুল তৈরি করতে পারে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ কেন পারবে না? এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। স্কুলে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত মামলায় আজ, শুক্রবার এমনই পর্যবেক্ষণ করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এদিন শিক্ষা দফতরকে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “পড়ুয়া অত্যন্ত কম থাকলে স্কুলের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিন। অযথা শিক্ষক পুষে লাভ নেই। যেখানে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের পাঠান”।

শিক্ষক সংক্রান্ত একটি মামলায় হাওড়ার একটি স্কুলের উদাহরণ উঠে আসে। সেই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ১৩ আর শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন। অন্যদিকে আবার হাওড়ারই রাসপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৮৫ আর তাদের জন্য শিক্ষিকা মাত্র ৮ জন। ওই স্কুলে অঙ্ক, জীবনবিজ্ঞান, ইতিহাসের শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। শিক্ষক ও পড়ুয়ার এহেন অনুপাত দেখে বেশ রেগে যান বিচারপতি বসু। পড়ুয়াহীন স্কুলগুলি তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিচারপতির এই পরামর্শ শুনে শিক্ষা দফতরের আইনজীবী জানা যে এমন পদক্ষেপ নিলে সমস্যা হতে পারে। রাজনৈতিক চাপ আসতে পারে। বিচারপতি বসু পাল্টা বলেন, “রাজনৈতিক চাপ ভুলে যান। স্কুলের এই অবস্থা চলতে পারে না। স্কুলের হাল ফেরাতে হবে। আমরা কেন মডেল স্কুলের আশা করতে পারি না? মেয়েদের একটি স্কুলে শিক্ষক, শৌচালয়, নিরাপত্তা কর্মী নেই। এর পরও চুপ করে থাকতে হবে”।

এদিন এজলাসে বিচারপতি বসু এও বলেন, “শিক্ষক বদলির নতুন নিয়ম ঠিক ভাবে পালন করুন। বদলির নিয়ম না মানলে পরের মাস থেকে বেতন বন্ধ করে দেব”।

তাঁর কথায়, “শিক্ষকের পরিবর্তে পড়ুয়াদের কথা ভাবতে হবে। এই অচলায়তন ভাঙতে গেলে সময় লাগবে। কিন্তু আমরা করে ছাড়ব”। এরপরই তিনি নির্দেশ হাওড়ার পুলিশ সুপারকে বিবেচনা করে দেখার নির্দেশ দেন যে ওই রাসপুর গার্লস হাইস্কুলে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা যায় কী না!

জানা গিয়েছে, রাসপুর গার্লস হাইস্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা বাসবী সামন্ত নিজের বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে বদলি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। হাইকোর্ট ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তনিমা পাত্র দাসের কাছে রিপোর্ট তলব করে জানতে চেয়েছে যে ওই স্কুলটি কেমন। সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ওই স্কুলে মোট ৫৮৫ জন ছাত্রী রয়েছে। আর তাদের জন্য অন্তত ১৫ জন শিক্ষিকা থাকার কথা। কিন্তু সেই স্কুলে শিক্ষিকা রয়েছে মাত্র ৮ জন।

জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে অঙ্ক, জীবনবিজ্ঞানের জন্য কোনও স্থায়ী শিক্ষিকা নেই আর এর উপর যদি ইতিহাসের শিক্ষিকাও বদলি নিয়ে চলে যান, তাহলে ইতিহাসেরও কোনও শিক্ষিকা থাকবে না। একথা জানার পরই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি বসু।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, “ভাবতে অবাক লাগে এই স্কুলের ছাত্রীদের ইতিহাস পড়াবেন কে, তা নিয়ে কেউ চিন্তিত নন। সম্প্রতি এই স্কুল থেকে চার জন শিক্ষিকা বদলি নিয়ে অন্য স্কুলে গিয়েছেন। আর তা মঞ্জুর করেছেন প্রধানশিক্ষিকা এবং শিক্ষা দফতর। এটা কি জঙ্গলের আইন? বিষয়টি নিয়ে তদন্তও হতে পারে”।

আরও অন্যান্য খবর