আজ মহাশিবরাত্রি। এদিন শিব ভক্তরা ভক্তিভরে দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো করেন। তাঁর মাথায় জল ঢালেন। এদিন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গে জল ঢালতে মানুষের ঢল নামে। এশিয়ার এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রয়েছে এই বাংলাতেই।
নদিয়ায় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত রাজেশ্বর শিবলিঙ্গই হল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। শিব চতুর্দশীতে এই শিবলিঙ্গে জল ঢালতে ভক্তদের আনাগোনা চলছে সকাল থেকেই। যত সময় এগোচ্ছে, ভিড় আরও বাড়ছে। সন্ধ্যেবেলা আরও বেশি ঢল নামবে ভক্তদের। শুধুমাত্র আজই নয়, আগামীকালও বিকেল পর্যন্ত থাকছে শিব চতুর্দশী। ফলে আগামীকালও একইভাবে ভিড় লক্ষ্য করা যাবে এই মন্দিরে।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তৈরি করেছিলেন শিবনিবাস মন্দির। জানা যায়, বর্গীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি মাজদিয়া শিব নিবাস অঞ্চলে এসেছিলেন একবার। সেই সময়ই এই মন্দিরটি বানান তিনি। এছাড়াও আরও অনেক বিস্তর কাহিনী রয়েছে এই শিবনিবাস মন্দির ঘিরে। বর্তমানে গোটা বিশ্বে এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছে। বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তের ঢল আসেন এই শিব নিবাস মন্দিরে পুজো দিতে।
শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে এই শিবনিবাস মন্দির প্রাঙ্গণে একটি মেলা বসে। তবে করোনা অতিমারির কারণে টানা দু’বছর ধরে বসেনি মেলা। এই বছর করোনার প্রকোপ কমতে প্রশাসনের নির্দেশ নিয়ে শিবরাত্রির বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বসেছে মেলা।
শিবরাত্রির দিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে, শিবের মাথায় জল ঢালতে। কিছুদিন আগেই এই শিবনিবাস মন্দিরে পুজো দিয়ে গিয়েছেন রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি মন্দিরে এসে বলেছিলেন, “শিবনিবাস মন্দির সংলগ্ন চূর্ণী নদীতে ভক্তরা পুজো দিতে এলে স্নান করেন। কিন্তু নদীর পাড় কাঁচা হওয়ায় খুব অসুবিধায় পড়তে হয় ভক্তদের”।
সেই কারণে তিনি জানান যে তিনি নিজের তহবিলের টাকা দিয়ে শিবনিবাস মন্দির সংলগ্ন চূর্ণী নদীর স্নানঘাট সিমেন্টের বাঁধিয়ে দেবেন। তাঁর এই প্রতিশ্রুতিতে স্থানীয় এলাকার মানুষরা বেশ খুশি।
এই শিবনিবাস মন্দির বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থিত। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে এই মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার দেখা যায়। প্রতিদিন স্থানীয়রা তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও মানুষজন এসে এই মন্দিরে পুজো দেন। প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল-বিকেল ভক্তদের জন্য খোলা হয় মন্দিরের দরজা।





