এনআরএসের নৃশংসতার ছায়া কলকাতার অভিজাত আবাসনে! বিষ খাইয়ে মে’রে ফেলা হল একাধিক কুকুরছানাকে, তোপ পশুপ্রেমীদের

কিছু বছর আগে এক নৃশংস ঘটনা ঘটে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে। বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল ১৬টি কুকুরছানাকে। সেই ঘটনা এখনও মনে রয়েছে অনেকেরই। এরপর থেকে একাধিকবার রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে পথকুকুরদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার কলকাতার এক আবাসন থেকে উঠে এল এমন একটি ঘটনা। বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হল একাধিক কুকুরছানাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে জোকা মেট্রো সংলগ্ন এক আবাসনে। ওই আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশে অভিযোগ করে জানান যে আবাসন চত্বর থেকেই চারটি কুকুরছানার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই আবাসন চত্বরে কিছু কুকুরছানা থাকত। তাদের খেতে দিতেন আবাসিকদের একাংশ। কিন্তু তা নিয়ে অন্যান্যরা আবাসিকরা ঝামেলা করতেন।

অভিযোগ, যেসমস্ত আবাসিকরা কুকুরছানাদের খেতে দিতেন, তাদের উপর অন্যান্য আবাসিকদের রাগ ছিল। কুকুরদের খাওয়ানো বন্ধ না করলে ব্যবস্থা নেবেন বলেও শাসিয়েছিলেন তারা। আর এরপরই উদ্ধার হয় একাধিক কুকুরছানার মৃতদেহ। প্রাথমিক সন্দেহ, ওই কুকুরছানাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কুকুরগুলির মৃতদেহ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে।

জোকার ওই আবাসনে অনেকগুলি টাওয়ার রয়েছে। প্রায় ১৮০০ পরিবারের বসবাস করে ওই আবাসনে। সেখানকারই বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুরে আবাসনের ১২ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় প্রথমে উদ্ধার হয় দু’টি কুকুরছানার দেহ। তাদের মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোতে দেখা যায়।

প্রথমে আবাসিকরা ভেবেছিলেন হয়ত কোনও রোগে ভুগে মারা গিয়েছে কুকুরছানাগুলি। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা কুকুরছানাগুলিকে মাটিতে পুঁতে দেন। কিন্তু এরপর গত বুধবার বিকেলে এবং বৃহস্পতিবার সকালে পরপর উদ্ধার হয় আরও দু’টি কুকুরছানার দেহ। এরপরই সন্দেহ হয় বাসিন্দাদের। কারণ প্রত্যেকটা কুকুরছানার মৃত্যুর ধরন একই।

অভিযোগ, ওই পথকুকুরদের নিয়ে অনেকদিন ধরেই আপত্তি জানাচ্ছিলেন আবাসিকদের একাংশ। দফায় দফায় অনেক ঝামেলাও হয়েছে এই নিয়ে। মাস তিনেক আগে কয়েকটি কুকুরছানা জন্মায়। এরপর আরও বাড়তে থাকে অশান্তি। যেসমস্ত আবাসিকরা কুকুরছানাদের দেখভাল করতেন, তাদের দাবী, রাগ থেকেই ওই কুকুরগুলিকে খুন করা হয়েছে।

RELATED Articles