হনুমান মন্দিরের কাছে মাংস পৌঁছতে অস্বীকার, চাকরি গেল ডেলিভারি বয়ের, ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে খুশি হয়ে সংবর্ধনা জানাল মন্দির কর্তৃপক্ষ

বর্তমানে অনলাইন খাবার ডেলিভারির অ্যাপের ব্যবহার বেশ বেড়েছে দেশজুড়ে। ঘরে বসে অর্ডার করেই চলে আসে নিজের পছন্দের খাবার তাও আবার সঠিক সময়ের মধ্যেই। ধীরে ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন খাবার ডেলিভারি সংস্থাগুলি। এবার এই খাবার ডেলিভারি করতে গিয়েই ঘটে গেল এক ঘটনা।

এক অনলাইন খাবার ডেলিভারি অ্যাপ থেকে এক ব্যক্তি অর্ডার করেছিলেন পাঁঠার মাংস ও নান। বেশ কিছুক্ষণ সময় পেরিয়ে গেলেও খাবার এসে পৌঁছয় না। কী কারণে দেরি, তা জানতে ডেলিভারি বয়কে ফোন করেন ব্যক্তি। আর তখনই জানা যায় খাবার না পৌঁছনোর আসল কারণ।

আসলে যে ব্যক্তি খাবার অর্ডার করেছিলেন সেই জায়গাটি ছিল দিল্লির এক বিখ্যাত হনুমান মন্দিরের চত্বরে। যেখান থেকে পুজোর ডালা কেনা হয়, সেরকম এক দোকান থেকেই পাঁঠার মাংস অর্ডার করা হয়েছিল। আর তাতেই আপত্তি ছিল ডেলিভারি বয়ের। যেখান থেকে হনুমানজির প্রসাদ কেনা হয়, সেখানে মাংসের ডেলিভারি করতে মোটেই রাজি ছিলেন না ডেলিভারি বয়।

তিনি খাবার অর্ডার করা ব্যক্তিকে সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি ওই চত্বরে খাবার ডেলিভারি করবেন না। ওই ব্যক্তি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন ডেলিভারি বয়কে। এমনকি, সংস্থার তরফেও তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় খাবার পৌঁছনোর জন্য। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের অনড় থাকেন তিনি। এর জেরে যে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে, তাও ভালোমতোই জানতেন ওই ডেলিভারি বয়।

এই ঘটনার কথা জানতে পারে ওই হনুমান মন্দিরের কর্তৃপক্ষ। তা জেনে বেজায় খুশি হন তারা। তাদের মতে, ওই ডেলিভারি বয় একজন আদর্শ হিন্দুর মতো কাজ করেছেন। মন্দিরের তরফে ওই ডেলিভারি বয়কে সংবর্ধনা জানানো হয়।  

ডেলিভারি সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে ওই ব্যক্তির চাকরি আদতে যায়নি। তারা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। তাদের কথায়, গ্রাহক বা ডেলিভারি কর্মী, কারোর ধর্মীয় ভাবাবেগেই আঘাত করতে চান না তারা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হবেন তারা।

আরও অন্যান্য খবর