বাংলায় ফিরছে টাটা গোষ্ঠী! ‘বাংলার জন্য এটা বড় শিল্প’, ঘোষণা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর, চলছে জমি অধিগ্রহণের কাজ

বাংলায় টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরেই সিঙ্গুরে কারখানা করতে পারে নি টাটা গোষ্ঠী। এবার ১৫ বছর পর ফের খড়গপুরে কারখানা করবে তারা। আজ, বুধবার নবান্নে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই ঘোষণা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়তে টাটা গোষ্ঠীর মুখে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তবে গত দশ বছরে বাংলায় কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এই গোষ্ঠী। লক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এবার ঝাড়খণ্ডের টাটানগর থেকে কারখানা সরিয়ে খড়গপুরে কারখানা করতে চলেছে টাটা হিতাচি।

বাংলায় যে সমস্ত শিল্প আসছে, তাতে নবতম সংযোজন হল টাটা হিটাচি। টাটানগর থেকে খড়গপুরে গোটা প্লান্ট হাজির করছে তারা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার জন্য এটা একটা বড় শিল্প”। এই টাটা হিতাচি মূলত মেশিন তৈরি করে। টাটা ও হিতাচির যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই সংস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও জানান যে বাংলায় মেট্রোর কোচ তৈরি বা ওয়াগন তৈরির মতো প্রকল্পও চলছে। এর ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডাটা সেন্টার হিসাবে উঠে আসছে বাংলা। লজিস্টিক হাব হচ্ছে। ফ্লিপকার্ট এসেছে কল্যাণীতে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। আমাজনের সাতটা লজিস্টিক হাব আছে। ১২ হাজার লোক কাজ করছে। মমতা এদিন জানান যে অধিগ্রহণের জন্য ৮ হাজার একর জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার জানান, জোর করে কোনও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না।

উল্লেখ্য, বাম আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চেয়েছিল টাটা গোষ্ঠী। সেই সময় অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরাতে রাস্তায় বসে আন্দোলন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৮ সালে সিঙ্গুর ছাড়েন রতন টাটা। এর কয়েক বছর পরই বাংলায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। যদিও সাম্প্রতিককালে মমতা অবশ্য বলেছেন, “আমি টাটাকে তাড়াইনি। তাড়িয়েছে সিপিএম”।

আরও অন্যান্য খবর