ফের দুর্নীতির সঙ্গে টলিউডের যোগ! ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শ্বেতার মাধ্যমেই টলিপাড়ায় টাকা ঢেলেছিলেন অয়ন? ইডি-র স্ক্যানারে এবার অয়নের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী

প্রায় বছর দুয়েক আগে সিনেমা প্রযোজনা করা শুরু করেছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীল। টলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালককে নিয়ে একটি সিনেমার শুটিং ও শুরু করেন। সেই  ছবিতেই অভিনয় করার কথা ছিল মডেল-অভিনেত্রী শ্বেতা চক্রবর্তীরও। ঘটনাচক্রে ওই একই নামে অয়নের বাড়িতে মিলেছে বেশ কিছু সম্পত্তির নথি, এমনটাই জানাল ইডি।

অয়নের বাড়ি তল্লাশি করে ওই সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। তাতে ওই সিনেমা সংক্রান্ত অনেক তথ্যই মিলেছে বলে খবর। ওই নথি থেকেই জানা গিয়েছে যে ছবির পাশাপাশি বাংলা সিরিয়ালেও টাকা ঢালতে চেয়েছিলেন অয়ন। তবে কী সিরিয়াল, সিনেমার মাধ্যমেই কালো টাকা সাদা করতে এই সিনেমার ব্যবসায় নেমেছিলেন অয়ন আর নিজের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে সামনে রেখেই এই কাজ করছিলেন তিনি, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন!

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে শান্তনু জানিয়েছিলেন, অয়ন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুন্তল ঘোষের মতো এজেন্ট মারফৎ যোগাযোগ রাখতেন। ইডিও অয়নের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ঘেঁটে ৫০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। ওই সূত্রেই খবর মিলেছে যে অয়নের বাড়ি থেকে যেসমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি, তাতে দেখা গিয়েছে টলিউডের একটি সিনেমার শ্যুটিং, অভিনেতা-কলাকুশলীদের সাম্মানিক বাবদ খরচের হিসাব রয়েছে। একটি টিভি সিরিয়াল সংস্থার সঙ্গেও তাঁর চুক্তিপত্র রয়েছে। তবে সিরিয়ালের নাম জানা যায়নি। কিন্তু সিনেমার নাম ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

সূত্রের খবর, ২০২০ সালে অয়ন ওই সিনেমার প্রযোজনা শুরু করেছিলেন। সিনেমার নাম— ‘কাবাড্ডি কাবাড্ডি’। ছবির পরিচালনায় ছিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার, অর্জুন চক্রবর্তীর। শ্বেতারও অভিনয় করার কথা ছিল এই ছবিতে।

ঘটনাচক্রে ওই একই নামে বেশ কিছু সম্পত্তি এবং গাড়ির নথি অয়নের বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তবে কাবাড্ডি কাবাড্ডি সিনেমার অভিনেত্রী শ্বেতা আর অয়নের বাড়িতে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির নথিতে নাম থাকা শ্বেতা, এরা দু’জনেই একই ব্যক্তি কী না, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

অয়নের সঙ্গে কাদের কাদের লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত করে দেখতে শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। অয়নের নথিতে শ্বেতার নাম থাকায় তাঁর সঙ্গেও লেনদেনের কোনও হিসাব পাওয়া যায় কী না, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। যদিও শ্বেতা নামের কাউকে এখনও ইডির তরফে তলব করা হয়নি।

বলে রাখি, প্রায় ৩৭ ঘণ্টা জেরার পর শান্তনু ঘনিষ্ঠ অয়ন শীলকে গ্রেফতার করে ইডি। গতকাল, সোমবারই তাকে আদালতে পেশ করা হয়। নানান নথি থেকে ইডি জানতে পারে, শুধুমাত্র শিক্ষক নিয়োগেই নয় রাজ্যের মোট ৬০টি পুরসভার নিয়োগেও বেনিয়ম হয়েছে আর তাতে যুক্ত ছিলেন অয়ন।

আরও অন্যান্য খবর