দণ্ডিকাণ্ড নিয়ে রাজ্য ও রাজনীতি বেশ উত্তাল। বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরা মহিলাদের দিয়ে দণ্ডি কাটিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করানোর ঘটনায় রাজ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় বালুরঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে। কিন্তু এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। সেই গ্রেফতারির দাবী তুলেই আগামী সোমবার অর্থাৎ ১৭ই এপ্রিল বাংলা বনধের ডাক দেওয়া হল।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিন মহিলা কর্মী। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তারা। কিন্তু এই ফেরাটা ততটাও সহজ ছিল না। তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় তাদের। দণ্ডি কেটে প্রায়শ্চিত্ত করে তবে তৃণমূলে ফিরতে পারেন তারা। সেই ঘটনা নিয়েই তরজা শুরু হয় শাসক-বিরোধীর মধ্যে।
এবার এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার দাবী তুলে আগামী সোমবার ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধের ডাক দেওয়া হল আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের তরফে। অন্যান্য আদিবাসী সংগঠনগুলিকেও তারা আহ্বান জানিয়েছে এই বনধে সামিল হওয়ার জন্য। এই বনধ এবার কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।
আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের উত্তরবঙ্গ জোনের সভাপতি বিভূতি টুডু এই বিষয়ে বলেন, “যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনা শুধু তাদের কাজ ছিল না। কিন্তু, আমরা চাইছি মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হোক। ওই কর্মসূচিতে যে সমস্ত তৃণমূলের নেতারা ছিলেন তাঁদের সকলকে গ্রেফতার করতে হবে। বনধের পরেও যদি কোনও পদক্ষেপ না করা হয় সেক্ষেত্রে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটব”।
অন্যদিকে, আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের উত্তরবঙ্গ জোনের সহ-সভাপতি মোহন হাঁসদা বলেন, “এই ঘটনায় ওই আদিবাসী মহিলাদের শুধু অপমান হয়নি। গোটা আদিবাসী সমাজের অপমান করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের পাঁচ দফা দাবী রয়েছে। সেই দাবিগুলি সামনে রেখে আমরা বনধ করতে চলেছি”।
দণ্ডিকাণ্ডের পর পদ থেকে সরানো হয় তৃণমূলের সভানেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলার আদিবাসী নেত্রী স্নেহলতা হেমব্রমকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ, শুক্রবার বালুরঘাট ব্লকের চকরামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভগবান জাহেরথান ও মাঝিথানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলকামনায় পুজো দেন তিনি। আর এই পুজোর মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের নতুন মহিলা তৃণমূল জেলা সভানেত্রী স্নেহলতা হেমব্রম।





