‘৪০ বছরে এই প্রথমবার গ্রাম দেখবেন যুবরাজ’, অভিষেকের ২ মাস ব্যাপী ‘সংযোগ যাত্রা’ নিয়ে খোঁচা দিলীপের

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। এর আগে জনসংযোগ বাড়াতে উদ্যত সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই। এই কারণে দু’মাস ব্যাপী সংযোগ যাত্রার (Sanjog Yatra) উদ্যোগ নিয়েছেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জনসংযোগ কর্মসূচির জন্যই এই উদ্যোগ। এবার অভিষেকের এই কর্মসূচি নিয়ে খোঁচা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosha)। তাঁর কথায়, ৪০ বছরে এই প্রথমবার গ্রাম দেখবেন অভিষেক।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘দুয়ারে সরকার’, ‘দিদির দূত’ কর্মসূচির পর এবার তৃণমূলের নতুন কর্মসূচি ‘সংযোগ যাত্রা’। জনসংযোগ বাড়াতে এই কর্মসূচি করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়েই কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অভিষেক জীবনে প্রথম বার গ্রামে যাবেন। রাহুল গান্ধী যেমন গ্রামে গিয়ে এবারই প্রথম সূর্যোদয় দেখলেন। গ্রামের মানুষ কিরকম হয় উনি সেদিন পার্লামেন্টে বলছিলেন। ৫০ বছর বয়সে উনি ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া করলেন। এখানেও তাই। যুবরাজ ৪০ বছর বয়সে সবাইকে দর্শন দিতে যাবেন। অথচ উনি গ্রাম থেকেই সংসদের প্রতিনিধি। রাহুল গান্ধী ৫০ বছরে প্রথমবার গিয়েছেন আর যুবরাজ একটু আগে শুরু করছেন”।

এখানেই শেষ নয়, দিলীপ আরও বলেন, “দুয়ারে সরকারে কর্মচারী নেই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আর দেওয়ার মতো টাকা নেই। দিদির দূত সব ভগ্নদূত হয়ে গিয়েছে। লোকে গাছে বেঁধে আটকে রাখছে গ্রামে গ্রামে। এই কর্মসূচির ফলাফল কী? চেষ্টা করছে মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখতে”।

গতকাল, বুধবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০০ আসনও পার করবে না। সেই নিয়ে পাল্টা দিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘কার শাপে যেন গোরু মরে না? কি একটা প্রবাদ আছে? ২০১৯ এও বলেছিলেন বিজেপি ফিনিশ। ওরা নাকি ৪২-এ ৪২ পাবে। পরিণাম কি হল? ওনার এক ডজন আসন কমে গেল। যাদের উনি কলকাতায় সেবার সভা করতে নিয়ে এসেছিলেন তাদের অনেকেই পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌছতে পারেননি। সবাই জেনে গিয়েছে ব্যাপারটা। তাই মমতাকে আর কেউ ডাকে না। কারণ ওনার দৃষ্টি পড়লেই সর্বনাশ”।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, “যদি অমিত শাহকে ফোন করেছি প্রমাণ হয়, আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেব”। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এতে প্রমাণ করার কি আছে? ওরা সর্বভারতীয় নাকি আঞ্চলিক, তাতে মানুষের কি যায় আসে? রাজ্যের মানুষ পেটে গামছা বেঁধে আছেন। অন্য রাজ্যে গিয়ে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আর এখানে কাটমানি ও দুর্নীতি চলছে”। দিলীপের আরও সংযোজন, “সবাই জেনে গিয়েছে ব্যাপারটা। তাই মমতাকে আর কেউ ডাকে না। কারণ ওঁর দৃষ্টি পড়লেই সর্বনাশ”।

RELATED Articles