অবশেষে বাড়ি ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়ী চার বিরোধী প্রার্থী। আর বাড়ি ফিরতেই নিজেদের বয়ান সম্পূর্ণ বদলে দিলেন তারা। তাদের দাবী, গেস্ট হাউস থেকে গান পয়েন্টে রেখে অপহরণ করা হয়েছিল তাদের। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের চাপে পড়েই প্রথম ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন তারা। এমনকি, তাদের দিয়ে সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল বলেও দাবী ওই চার প্রার্থীর। তাদের ভয় দেখিয়ে বয়ান রেকর্ড করানো হয় বলে অভিযোগ।
কী ঘটনা ঘটেছিল?
বিজেপির তিন প্রার্থী ও সিপিএম সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় ইতিমধ্যেই আবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সিপিআইএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। এরইমধ্যে পঞ্চসায়র থানায় একটি চিঠি আসে।
সেই চিঠিতে ওই চার জয়ী প্রার্থী জানিয়েছিলেন যে কেউ তাদের অপহরণ করেনি। নিজেদের ইচ্ছেতেই গিয়েছিলেন তারা। এরপর পুলিশ সূত্রে খবর মেলে, চারজনকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দেখা গিয়েছে। তবে এখন আবার বয়ান পাল্টে তাদের দাবী, তাদের দিয়ে জোর করে নাকি ওই বয়ান লেখানো হয়েছিল।
কী জানাচ্ছেন ওই প্রার্থীরা?
ওই চার প্রার্থীর মধ্যে কমলা মণ্ডল নামে এক প্রার্থী জানান, “গত ২৭ তারিখ রাতে সাড়ে ১০টা নাগাদ চারটি গাড়ি নিয়ে এসে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত গাড়ি চালানোর পর ভোরে একটি নদী পেরিয়ে একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের। সেখানে রাতে থাকার পর সকাল ৮টা নাগাদ আমাদের জলখাবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা তখন খাওয়ার অবস্থায় ছিলাম না। সেখানে একটি সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়। সেই অবস্থায় আমরা সই করি। সেখান থেকে আবার আমাদের নিয়ে আরও একটি নদী পেরিয়ে আর একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমরা আরও এক রাত ছিলাম”।
কমলার দাব, “গত কাল (শনিবার) রাতে ১৪-১৫ জন পুলিশ গিয়ে আমাদের সাদা কাগজে নাম সই করতে এবং তারিখ দিতে বলে। আমরা তা করতে বাধ্য হই। তার পর ওদের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করে। তা ভিডিয়ো করা হয়”।
তাঁর আরও দাবী, “আজ জানি না উপর থেকে কী চাপ এসেছে, আমাদের সকাল পৌনে ৬টা নাগাদ বলে, ‘তোমরা ঘরে যাও।’ এর পর ওরা গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেয়”।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এই বিষয়ে সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়দেব হালদার বলেন, “এই অপহরণের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই”।





