বেতন হচ্ছে না ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের অধীনস্থ স্কুলগুলির শিক্ষকদের। এদের কারোর বেতন ৫ হাজার তো কারোর আবার ১০ হাজার। অনেকদিন ধরেই এই শিক্ষকদের বেতন আটকে রেখেছে সংস্থা, এমনটাই অভিযোগ। এই নিয়ে অভিযোগ জানানো হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এই মামলার শুনানির আজ, সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের তোপের মুখে পড়ল ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ড। এই সংস্থাকে চার লক্ষ টাকার জরিমানাও করা হয়।
কী অভিযোগ শিক্ষকদের?
ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের অধীনস্থ স্কুলগুলিতে অনেক পড়ুয়া পড়াশোনা করে। এই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ, তারা কেউ সাত বছর, কেউ আবার দশ বছর ধরে কোনও বেতন পাননি। সেই অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন শিক্ষকদের একাংশ।
আজ, সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডকে চূড়ান্ত তোপ শানান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “মাত্র পাঁচ হাজার বেতন, তাও দিচ্ছেন না স্কুলের শিক্ষকদের। এটা কী কোনও সভ্য নাগরিক সহ্য করবে? বিচারালয় সহ্য করবে”?
এদিন আদালতে কোল্ডফিল্ডের আইনজীবী জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে সমস্যা হবে। ওরা (পড়ুন শিক্ষক- শিক্ষিকা) আমাদের কর্মী নন”। তা শুনে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “সমস্যা হলে সমস্যা হবে। আপনারা খুব কেয়ারলেস। শুধু শিক্ষকদের বেতন না দিতে আপনারা খুব সিরিয়াস। স্পেশ্যাল অফিসারের রিপোর্টে জানা গেছে টাকা দেওয়া হয়নি। সেই রিপোর্ট কি অস্বীকার করবেন”?
বিচারপতি এদিন আরও বলেন, “সারা দেশে কি চলছে। গরিবদের উপর অত্যাচার চলছে। ওরা ভিখারি নাকি”? তিনি বলেন, “সিবিআইকে বলতে পারি ওই মামলায় তদন্ত করার জন্য। আমি সেই সব শিক্ষকদের জন্য নির্দেশ দেব, যারা মাত্র পাঁচ হাজার টাকার জন্য আদালত পর্যন্ত ছুটে এসেছেন”।
ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের উদ্দেশে এদিন বিচারপতি বলেন, “শিক্ষকদের চোখের জল ফেলবেন না। মামলা করতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন আর বেতন দিতে পারছেন না? দেশে স্বাধীনতার অমৃত মহোত্সব পালিত হচ্ছে আর শিক্ষকদের এই অবস্থা? স্কুল চালাতে না পারলে আদানিকে বেচে দিন”।
মামলাকারীরা কী অভিযোগ করেছেন?
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ইস্টার্ন কোলফিল্ডের অধীনে ঝাড়খণ্ডে ৯ টি ও বাংলায় ৭ টি স্কুল আছে। মামালাকারীদের অভিযোগ ছিল, “৭-৮ বছর পর্যন্ত বাকি রয়েছে শিক্ষকদের বেতন। ইচ্ছে মতো বেতন দিচ্ছে ইসিএল। এমনকী স্কুল বন্ধ করার চক্রান্ত চালাচ্ছে তারা”।
এদিন শুনানি শেষে বিচারপতি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে ইসিএলকে। সেই টাকা দিয়ে আগামী ৩ মাস সব শিক্ষককে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।





