হার না মানার লড়াই! দুর্ঘটনায় খোয়া গিয়েছে দুটো পা-ই, হুইলচেয়ারে বসেই বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন ইকবাল

জীবনে বেঁচে থাকার জন্যই উদয়াস্ত খেটে চলেছে মানুষ। পেটে ভাত জোগাড়ের তাগিদে আর মাথার উপর একটুকরো আশ্রয়ের জন্যই এত পরিশ্রম। অনেকেই সেই জীবন যুদ্ধে হাঁপিয়ে উঠে হার মেনে নেন। জীবন সংগ্রামের কাছে নতি স্বীকার করে নেন অনেকেই। কিন্তু এমনও অনেক মানুষ রয়েছেন যারা হাজার একটা প্রতিকূলতা কাটিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত।

তেমনই একজন হলেন সর্দার ইকবাল সিং। দুর্ঘটনায় দুটো পা-ই হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনও কিছুই দমিয়ে দিতে পারে নি ইকবালের আত্মবিশ্বাস। জীবন শক্তির প্রতিটা বিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। হুইলচেয়ার নিয়ে নেমেছেন পথে। জোম্যাটোর হয়ে ডেলিভারি বয়ের কাজ করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার। আর মুখে তাঁর সবসময় লেগে রয়েছে অনর্গল হাসি।

কে এই সর্দার ইকবাল সিং

অমৃতসরের বাসিন্দা সর্দার ইকবাল সিং পাঞ্জাবের। পথ দুর্ঘটনায় দুটি পা-ই পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে তাঁর। কিন্তু পঙ্গুত্বকেও মেনে নিয়ে ঘরে বসে থাকেন নি তিনি। কারণ ঘরে চুপচাপ বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। তাই কাজ করতেই হবে। সেই কারণেই খাবার ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটোর হয়ে ডেলিভারি বয়ের কাজ বেছে নেন ইকবাল।

অন্যদের এই কাজে বাহন হয় সাইকেল কিংবা মোটরবাইক। ইকবালের ক্ষেত্রে তা সামান্য আলাদা। ইকবালের বাহন তাঁর মোটরচালিত হুইলচেয়ার। মাথায় পাগড়ি জড়িয়ে লাল ইউনিফর্ম পরে প্রতিদিন হাসিমুখে হুইলচেয়ার নিয়েই রাস্তায় নামেন ইকবাল। নানান রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন তিনি।

অমৃতসরের এক টুইটার ব্যবহারকারী ইকবালের এই জীবন সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরেছেন। সেই ভিডিও এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন এই ভিডিও।

এই ভিডিও দেখে একদিকে যেমন চোখ ভিজেছে নেটিজেনদের, তেমনই আবার নানান সুন্দর সুন্দর শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে কমেন্ট বক্স। একজন লিখেছেন, “ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন। এমন পরিশ্রমী মানুষের দেখা সহজে মেলে না”। আবার অনেকেই ইকবালকে চাকরি দেওয়ার জন্য জোম্যাটোকেও বাহবা জানিয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর