চিকিৎসকের কাছে আমরা যাই রোগমুক্ত হতে। কিন্তু সেই চিকিৎসকই যদি ভক্ষকের আকার ধারণ করেন, তাহলে? এমনই এক ঘটনা ঘটল বনগাঁর গাইঘাটা থানা এলাকায়। এক তরুণীকে ফাঁকা চেম্বারে একা পেয়ে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের নাম সুব্রত সরকার। তিনি আবার গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি। পুলিশ গ্রেফতার করে ওই তৃণমূল নেতাকে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটে গতকাল, শনিবার সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ। এই ঘটনার কথা জানার পরই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই চিকিৎসকের চেম্বারের বাইরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তারা। নিগৃহীতা ওই তরুণী ওই তৃণমূল নেতা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
সেই অভিযোগের বিরুদ্ধেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতাকে। তরুণীর পরিবারের সূত্রে খবর, ছোটবেলা থেকেই ওই তরুণী অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছেই চিকিৎসা করান। ওই অভিযুক্তকে তাদের পরিবারিক চিকিৎসকও বলা যায়। তিনিই এমন কাজ করায় খুবই ক্ষুব্ধ সকলে।
কী জানান তরুণী?
নিগৃহীতা তরুণী বলেন, “সে সময় চেম্বারে কেউ ছিল না। ওষুধ নিয়ে বেরোনোর সময় হঠাৎ অভিযুক্ত চিকিৎসক পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। চু’মু খাওয়ার চেষ্টা করে। ছাড়িয়ে বেরোতে গেলে জোর জবরদস্তি করতে থাকে ওই চিকিৎসক”।
তরুণী জানান, তিনি কোনওমতে সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সমস্ত ঘটনা জানান তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। এই খবর পেয়েই ওই চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসী। রাতেই ওই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তরুণীর পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, “অভিযুক্ত সুব্রত সরকার এর আগেও এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটিয়েছেন ৷ অর্থের জোরে ক্ষমতা জোরে ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিয়েছে ৷ এবার তাঁর শাস্তি চাই”। এই ঘটনা সামনে আসতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বেশ অস্বস্তিতে। এই ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও পর্যন্ত।





