এ যেন ১৯৬৮ সালেরই ভয়াবহ দৃশ্যের রোমন্থন। সে বছর এই অক্টোবর মাসেরি বৃষ্টিতেই গোটা উত্তরবঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। হড়পা বানের জেরে প্রাণ হারান ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। ছারখার হয়ে গিয়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই শিউড়ে ওঠা স্মৃতিই ফের ফিরছে না তো?
মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সিকিম বিপর্যস্ত। বন্যার জেরে আটকে পড়েছেন পর্যটকরা। খোঁজ মিলছে না একাধিকের। ধীরে ধীরে জলস্তর কমছে তিস্তার। কিন্তু তখনই দেখা গেক আঁতকে ওঠার মতো দৃশ্য। জলপাইগুড়ির তিস্তার পাড়ে দেখা গেল লাশের স্তূপ। বৃহস্পতিবার গোটা দিন উদ্ধারকার্যের পর উদ্ধার হল ১৮ জনের দেহ। এদের মধ্যে ৪ জন জওয়ান।
গতকাল, বৃহস্পতিবার গোটা দিন ধরে উদ্ধারকাজ চলে তিস্তায়। এদিন সন্ধ্যের পর মাল থানা, ময়নাগুড়ি থানা এবং সদর ব্লকের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মোট ১৮টি দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনডিআরএফ, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ কর্মীরাও হাত লাগান উদ্ধারকাজে।
উদ্ধার হওয়া দেহগুলিকে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রয়েছে দেহগুলি। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ১৮টি দেহর মধ্যে ৪ জন সেনাকর্মী রয়েছেন।
কী জানাল পুলিশ?
জলপাইগুড়ি জেলাশাসক শামা পারভিন জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত মোট ১৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের নাম পরিচয় জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন সেনাবাহিনীর এবং ২ জন আমজনতা। বাকিদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আমরা দেহ মর্গে পাঠিয়েছি”। এদিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও দুই সেনার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কী জানাল হাওয়া অফিস?
আবহাওয়া নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহাওয়াবিদ সৌরীশ বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। শুধুমাত্র কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলাতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে।





