বাবা জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিজেদের পড়াশোনা বজায় রাখতে চেয়েছিল তারা। সেই কারণে কন্যাশ্রীর টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিল তিন বোন। তবে কিছুদিন পর কলকাতা ফিরে আসতেই তাদের পাকড়াও করল পুলিশ।
ওই তিন বোন দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার তিলাবনি গ্রামের বাসিন্দা। তিন বোনের মধ্যে দু’জন নাবালিকা। ছোটো বোন লাউদোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির পড়ুয়া। মেজো বোন বীরভূমের পাথরচাপুরি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বয়স ১৭। আর বড় দিদিনেহা খাতুন পাণ্ডবেশ্বর গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েন। এবার অকৃতকার্য হয়ে পরের বছর ফের উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তাদের বাবা নাসিমুদ্দিন খান বেসরকারি কারখানায় অতি সাধারণ চাকরি করেন। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। আর্থিক দুরবস্থার কারণেই বড় মেয়ে ও মেজো বোনের বিয়ে ঠিক করেন বাবা। কিন্তু নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিল তিন বোনই। সেই কারণেই অষ্টমীর রাতে বড় দিদির হাত ধরে বাড়ি থেকে পালায় দুই বোন।
পালানোর সময় কন্যাশ্রীর টাকা ও বাড়ি থেকে কিছু টাকা মিলিয়ে ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায় তিন বোন। পালানোর সময় বাবার ফোন নিয়ে যায় তারা। প্রথমে আসানসোলে গিয়ে নতুন সিম নেয় যাতে কেউ তাদের খোঁজ না পায়। তারপর সেখান থেকে তারা মুম্বইয়ের ট্রেনে চাপে।
তবে এত কম টাকা নিয়ে মুম্বইয়ে বেশিদিন থাকতে পারেনি তিন বোন। টাকা শেষের পথে দেখে পাণ্ডবেশ্বরে এক আত্মীয়কে ফোন করে তারা। সেই আত্মীয়ের থেকেই মেয়েদের খবর পান বাবা। পুলিশকে জানান দ্রুত। পুলিশ তাদের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করতে থাকে।
এরই মধ্যে মুম্বই থেকে হাওড়া আসে তিন বোন। তারপর সেখান থেকে তারা যায় দমদম স্টেশনে। ততক্ষণে তাদের মোবাইল থেকে লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ। দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশ খবর দেয় দমদম জিআরপিকে। তারপর দমদম স্টেশন থেকে পাকড়াও করা হয় তিন বোনকে।





