দীর্ঘ আট মাস যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে। চলবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সেই কারণে দীর্ঘদিন আংশিক বন্ধ থাকবে দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা বিদ্যাসাগর সেতু। আজ, বুধবার থেকে আংশিক বন্ধ থাকবে এই উড়ালপুল, এমনটাই জানানো হল কলকাতা পুলিশের তরফে।
কেন বন্ধ থাকবে এই সেতু?
দ্বিতীয় হুগলি সেতুকে কেবল স্টেইড ধরে রেখেছে । সেই কেবলগুলির মধ্যে কয়েকটি কেবলের বেশ খারাপ। সেইগুলি মেরামতির প্রয়োজন। এই নিয়ে একটি রাজ্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও হয়। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে পুজোর পর থেকেই দ্বিতীয় হুগলি সেতুর মেরামতির কাজ শুরু হবে।
এই সেতুর উপর দিয়ে বড় বড় গাড়ি ও পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। তবে এবার যান নিয়ন্ত্রণ করার ফলে সেই গাড়িগুলিকে আর উঠতে দেওয়া হবে না সেতুতে। সেতুর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কড়াকড়ি থাকবে। ফলে বেশ সমস্যায় পড়তে পারেন শহরবাসী। আগামী বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত সেতুতে কাজ চলবে বলে জানা গিয়েছে। এই সময় পর্যন্ত কিছু বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ।
সেই বিকল্প রাস্তাগুলি কী কী?
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ডি এল খান রোডের দিক থেকে এজেসি বোস রোড হয়ে আসা ভারী ও মাঝারি পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে হসপিটাল রোড, কে পি রোড, ডাফরিন রোড, মেয়ো রোড হয়ে এসপ্ল্যানেড ক্রসিং, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পার করে নিবেদিতা সেতু দিয়ে পাঠানো হবে। আবার এক্সাইড ক্রসিং থেকে এজেসি বোস রোড হয়ে আসা ভারী ও মাঝারি পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে পার করানো হবে জওহরলাল নেহরু রোড, ডোরিনা ক্রসিং, সি আর এভিনিউ, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পার করে টালা ব্রিজ, ডানলপ ক্রসিং হয়ে নিবেদিতা সেতু দিয়ে।
আবার পোর্টের দিক থেকে আসা ভারী ও মাঝারি পণ্যবাহী গাড়িগুলিকেও পার করানো হবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর বদলে নিবেদিতা সেতু দিয়েই। এই দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উপর দিয়েই পোর্ট ট্রাস্টের কিছু বড় গাড়ি চলাচল করে। সেই গাড়িগুলিকে আপাতত এই আট মাসের জন্য রাত ১২টার পর সেতু দিয়ে পাস করানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এ বছরই সংস্কার করা হয়েছিল দ্বিতীয় হুগলি সেতুর রাস্তার। সেতুর উপর রাস্তার অংশ তুলে দিয়ে তাতে ম্যাস্টিক অ্যাস্ফাল্টের প্রলেপ দেওয়া হয়। ব্রিজের ডেড লোড বেড়ে না যায়, সেই কারণে নতুন অ্যাস্ফাল্টের প্রলেপ দেওয়ার আগে পুরনো রাস্তার অংশ তুলে ফেলা হয়েছিল।





