রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এরপর থেকেই বিরোধীরা বলতে শুরু করেন, পশুখাদ্যে লালু আর মানুষের খাদ্যে বালু। এবার যেন তেমন আন্দাজই সত্যি হল। রেশন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেল পশুখাদ্যে দুর্নীতি, এমনটাই খবর ইডি সূত্রে।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের তল্লাশির সময় একটি মেরুন রঙের ডায়েরি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেই ডায়েরির পাতায় লেখা ‘এন্ট্রি’ শব্দটি নিয়ে বর্তমানে দানা বেঁধেছে রহস্য। সেই এন্ট্রি শব্দের নীচেই একাধিক ব্যক্তির নাম লেখা। সেই ডায়েরিতে একাধিক চালকল, গমকলের মালিকের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, তাতে অনেক ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে । সেই তথ্য ধরেই নানান ব্যবসায়ীর বাড়ি হানা দিচ্ছে ইডি।
সেই সূত্র ধরেই কলকাতার ব্যবসায়ী চান্দাক পরিবারে হানা দেয় ইডি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি। সেই তল্লাশিতেই উঠে এসেছে বিহারের পশুখাদ্যে কেলেঙ্কারির যোগসূত্র। লালুপ্রসাদ যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি হয়েছিল, সেই মামলায় ২০০৪ সালে গ্রেফতার হয়েছিল দীপেশ চান্দাক। সেই দীপেশ আবার কলকাতার হিতেশ ও অঙ্কিত চান্দাকের পরিবারের সদস্য। রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে এই হিতেশ ও অঙ্কিত চান্দাকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি।
বলে রাখা ভালো, বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে লালুর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন দীপেশ চান্দাক। সেই সময় তিনি মুক্তি পান। তবে পরে ফের ২০১৮ সালে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন দীপেশ। বিহার ও ঝাড়খণ্ডের গুদামের লিজ বাড়ানোর সময়ে এক এফসিআই আধিকারিককে ঘুষ দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।
সেই সময় তাঁর জামিন নিয়েও এক কাণ্ড হয়েছিল। দীপেশের পরিবার অভিযোগ করেছিল যে দীপেশকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপরই বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্য পুলিশ। অভিযোগ ছিল, দীপেশ হয়ত রাজ্যের কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় রয়েছেন। এবার সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কী না, সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে সর্বত্র।






