রাজ্যের রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি জেলে ঠাঁই হয়েছে তাঁর। মন্ত্রীকে রাখা হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলের পয়লা বাইশ ওয়ার্ডের সাত নম্বর সেলে। কিন্তু জেলে যাওয়া ইস্তক নানান আবদার করে জেল কর্তৃপক্ষকে নাজেহাল করে তুলেছেন বালু।
সূত্রের খবর, জেলে মেঝেতে কম্বল পেতে বিছানা করেই শুতে হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়কে। জেল কর্তৃপক্ষের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ডায়েট মেনেই খাবার দেওয়া হবে মন্ত্রীকে। সেই কারণে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে জেলে জ্যোতিপ্রিয়র জন্য বাড়ি থেকে খাবার আসবে না।
কিন্তু মন্ত্রী নাকি মঙ্গলবার সকাল থেকেই অদ্ভুত আবদার শুরু করেছেন। তিনি সমানে বলে যাচ্ছেন যে তিনি জেলে থাকবেন না। তাঁর সেলের পাশ দিয়ে কোনও রক্ষী গেলেও তাঁকে ডেকে নাকি জ্যোতিপ্রিয় বলছেন, “সুপারকে বলুন, আমার শরীর খুব খারাপ। মনে হচ্ছে বাম দিকটা পক্ষাঘাত হয়ে যাবে। প্লিজ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন”।
এটাই প্রথমবার নয়, ইডি হেফাজতে থাকাকালীনও বারবার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। বারবার তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “বামদিকটা পক্ষাঘাত হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। খুব অসুস্থ আমি। মরে যাব মনে হচ্ছে। আর বাঁচব না”।
জেলে জ্যোতিপ্রিয়র এমন আবদার প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেল সুপার দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আপাত সুস্থই আছেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সংশোধনাগরে আছেন তিনি। আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে জেল কর্তৃপক্ষ”।
জেলে না থাকতে চাওয়া সম্পর্কে মন্ত্রীর অনুরোধ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সুপার বলেন, “আমি আমার কথা বললাম, বাকি তাঁর সঙ্গে যখন কথা হবে তখন তাঁর কাছ থেকে না হয় জেনে নেবেন”।
সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্সি জেলে বর্তমানে ২২০০ জন বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এমন বন্দি রয়েছে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনেই তাদের জন্য প্রতিদিন আলাদা করে বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়। সেই খাবারই দেওয়া হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয়কেও। তবে তাঁর জেলে না থাকতে চাওয়ার আবদার নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।






