১০০০ দিন রাস্তায়, ধর্মতলায় মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ মহিলা চাকরিপ্রার্থীর, আর কী করলে চাকরি পাব? প্রশ্ন আন্দোলনরতদের

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টানাপড়েনের অন্ত নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসে নিজেদের হকের চাকরির জন্য প্রতিবাদ জানাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আজ, শনিবার তাদের সেই আন্দোলনের ১০০০ দিন পূর্ণ হল। কিন্তু এখনও অনিশ্চিত চাকরি। এবার চাকরির দাবীতে মেয়ো রোডের ধর্না মঞ্চেই মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ করলেন এসএলএসটি মহিলা চাকরিপ্রার্থী।  

এদিন ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চেই নিজের মস্তক মুণ্ডন করেন মহিলা চাকরিপ্রার্থী। নিজের হকের চাকরির জন্য এতদিন ধরে এই জ্বালা-যন্ত্রণা ভোগ করে আসছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু এরপরও কী আদৌ চাকরি মিলবে? সেই নিশ্চয়তা তো নেই। এদিন ধর্না মঞ্চে মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ জানানোর সময় কেঁদে ফেললেন ওই মহিলা চাকরিপ্রার্থী।       

তিনি বলেন, “আমাদের যন্ত্রণার আজ হাজার তম দিন। সরকার উদাসহীন আমাদের নিয়োগের ব্যাপারে। এর প্রতিবাদ জানাই। এ রাজ্যের বিরোধী দল, শিক্ষাবীদ, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ সকলের কাছে আমাদের আবেদন সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে প্রশ্ন করুন আমাদের নিয়োগ কবে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নিয়োগ হবে। কবে হবে? আমারা ওনার কাছে পৌঁছতে পারিনি। অনেকবার চেষ্টা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী যদি দেখে থাকেন একবার গান্ধীমূর্তির নিচে এসে দেখুন। এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না। আপনি একজন মহিলা। আমাদের যন্ত্রণা বুঝুন”।

১০০০ দিন রাস্তায়, ধর্মতলায় মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ মহিলা চাকরিপ্রার্থীর, আর কী করলে চাকরি পাব? প্রশ্ন আন্দোলনরতদের

অন্য এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী বললেন, “মাননীয় আপানার রাজ্যে এটা কাম্য নয়। আমাদের চুল এভাবে বিসর্জন করতে হবে?আর কী করতে হবে আমাদের”? আরও এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আপনি উত্তরবঙ্গে রয়েছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। আমাদের এই আন্দোলন যদি দেখে থাকেন তাহলে আগামিকালই আমাদের ধরনা মঞ্চে আসুন। আপনাকে এসে আমাদের নিয়োগ দিতেই হবে”।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। পরীক্ষায় পাশ করার পরও চাকরি পান নি অনেক প্রার্থীই। নিয়োগের দাবী নিয়ে দিনের পর দিন রাস্তায় বসে আন্দোলন চালাচ্ছেন তারা। নানান ভাবে প্রতিবাদ করেছেন, কিন্তু তাদের চাকরি আর হয়নি। অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটা আর দেওয়া হয়নি।  

রাজ্য সরকারের দাবী, এই বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সেই কারণে আইনি গেড়ো থাকার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় আবার মহিলা চাকরিপ্রার্থীর এই প্রতিবাদ জানানো ভাষাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।  

RELATED Articles