এবার অযোধ্যার রাম মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হল বাংলার নামও। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের এক মুসলিম শিল্পীর হাতে তৈরি রামের মূর্তি এবার শোভা পাবে অযোধ্যার রাম মন্দিরে।
কে এই শিল্পী?
এই শিল্পীর নাম জামালউদ্দিন। দত্তপুকুর এলাকায় রয়েছে বিট্টু ফাইবার গ্লাস। সেখানেই ছেলে বিট্টুকে নিয়ে ফাইবারের মূর্তি তৈরির কাজ করেন জামালউদ্দিন। সেখানেই অযোধ্যার রাম মন্দিরের জন্য ১৬-১৭ ফুট উচ্চতার ফাইবারের রামের মূর্তি তৈরি করেছেন জামালউদ্দিন ও বিট্টু। সেই মূর্তি স্থান পাবে অযোধ্যার রাম মন্দিরে যা অত্যন্ত গর্বের।
জানা গিয়েছে, এই মূর্তি দুটির একটির দাম ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, অন্যটির দাম আড়াই লক্ষ টাকা। অর্ডার দেওয়ার পর জামালউদ্দিনকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। ডেলিভারির দেওয়ার ২০ থেকে ২৫ দিন আগে ক্রেতারা বারাসাতে এসেছিলেন। কাজ শেষ হওয়ার পর মূর্তি নিয়ে যান তাঁরা। প্রথমে জামালউদ্দিন জানতেন না যে ওই মূর্তি ঠিক কোথায় যাচ্ছে। পরে একটি পত্রিকা থেকে জানতে পারেন যে তাঁর বানানো মূর্তি বসানো হবে অযোধ্যায় রাম মন্দির চত্বরেই। এ কথা জানতে পেরে বেজায় খুশি শিল্পী জামালউদ্দিন। আর এই খবরে ততটাই খুশি হয়েছেন বারাসাতের বাসিন্দারাও।
প্রসঙ্গত, গ্লাস ফাইবারের মূর্তি তৈরির জন্য দত্তপুকুর বেশ জনপ্রিয়। এই এলাকা ৫০-৬০ টি ওয়ার্কশপে ফাইবারের কাজ হয়। নানান জায়গা থেকে অর্ডার আসে মূর্তি তৈরির। জামালউদ্দিন জানিয়েছেন, ক্রেতারা দত্তপুকুরে গিয়ে নানান ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখে, দরদাম করে, তারপর অর্ডার দেন। ১ বছর আগে একটি মূর্তির অর্ডার দেওয়া হয়, আর অন্যটি অর্ডার দেওয়া হয় ৬ থেকে ৮ মাস আগে।
তবে শুধুমাত্র জামালউদ্দিনই নন, দত্তপুকুরের সৌরভ রায়ও অযোধ্যার রাম মন্দিরের কাজে গিয়েছেন। রাম মন্দির উদ্বোধন হলেই বাড়ি ফেরার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। তবে সৌরভের মা-বাবা প্রথমটায় জানতেন না যে ছেলে রাম মন্দিরের কাজের জন্য গিয়েছে। তবে তা জানতে পেরে ছেলের জন্য গর্বিত সৌরভের মা-বাবা।





